আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা
ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঢল ॥ কেনাকাটার ধুমে খুশি বিক্রেতা
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইয়া স্টাফ রিপোর্টার রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জঃ
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সাপ্তাহিক ছুটির চতুর্থ দিনে শনিবার ১৭ জানুয়ারি ক্রেতা -দর্শনার্থীদের ঢল নামে। পণ্য কেনাকাটার ধুম পড়ে। যারা এতদিন ঘুরেফিরে মেলায় পছন্দের পণ্যের খোঁজখবর করেছেন তাদের অনেকেই কেনাকাটা শুরু করেছেন। সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীরা দল বেঁধে মেলায় প্রবেশ করে। দুপুর ১২টার পর মেলায় দর্শনার্থীদের ঢল নামে। বিকালের দিক ক্রেতা- দর্শনার্থীদের আগমনে মেলা প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলা জমে উঠে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, যে সব পণ্যে মূল্যছাড় বেশি সেখানে ক্রেতারা বেশি ঝুঁকছেন। এছাড়া ফার্নিচারের স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় দেখা গেছে। একই অবস্থা বিদেশি স্টল-প্যাভিলিয়নেও। এসব প্যাভিলিয়নে কেনাকাটাও বেশ ভালো। মূল্যছাড় আর আকর্ষণীয় অফারে কেনাবেচার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। খাবারের স্টলগুলোতেও ছিলো অনেকের সরব উপস্থিতি। দর্শনার্থীদের কারো আগ্রহ ছিলো ঘর সাজানোর সামগ্রী ঘিরে, আবার কারো নিজেকে সাজানোর দিকে। ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। ডিআইটিএফ প্রাঙ্গণ। তরুণ-তরুণী ও বয়স্কদের পাশাপাশি বাদ যায়নি শিশুরাও।
ছুটির দিন হওয়ায় কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে নানা পণ্য কিনেছেন। মেতেছেন আড্ডায়। তুলেছেন ছবি। বেশি ছাড় পেতে স্টল থেকে স্টলে ছুঁটেছেন তারা।
মেলায় আগতরা বের হওয়ার সময় দেখা গেছে প্রত্যেকের হাতেই ক্রয় করা পণ্য। মেলায় এসে কিছু না কিছু ক্রয় করেনি এমন কোনো পরিবার দেখা যায়নি। মেলায় গৃহস্থালি পণ্য, কাপড়, সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী, প্লাস্টিকসামগ্রী, মেলামাইন, ইমিটেশনের গহনা, কসমেটিক, খাবার, খেলনা, পাট-চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ইলেকট্রনিক, ক্রোকারিজ পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর কলাবাগান থেকে আসা গৃহবধূ সারমিন সুলতানা বলেন, এবার বাণিজ্য মেলায় তৃতীয় দিনের মতো এসেছি। এতদিন ঘুরেফিরে দেখেছি। ছবি তোলা আর খাওয়া ছাড়া কোনো পণ্য ক্রয় করিনি। আজ গৃহস্থালি, ইমিটেশনের গহনা ও ক্রোকারিজ পণ্য ক্রয় করেছি।
ঢাকার শান্তিনগর থেকে আসা গৃহবধূ রোকেয়া আক্তার বলেন, মেলার রাইডগুলোতে চড়ে আমার ছেলেমেয়েরা খুব অনন্দ উপভোগ করেছে।
মালিবাগ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া আফরিন সুলতানা বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়নে প্রবেশ করতেই খুব ভালোই লেগেছে। জুলাই শহীদদের ছবি ও কর্মকান্ড দেখে মন ছুঁয়ে গেছে। জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি দর্শকদের আকৃষ্ট করছে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ছাত্রী মানসুরা জান্নাত মনিমা বলেন, মূল্যছাড়ে তিনি মেলায় ইমিটেশনের অলংকার, চোখ জুড়ানো বিদেশি কার্পেট, শাল, বিজ্ঞান মেলা থেকে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করেছেন।
গাজীপুর থেকে স্বপরিবারে আসা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বাইপাস সড়কের যানজট এখনো নিরসন হয়নি। মীরের বাজার থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দূরত্বের মেলাপ্রাঙ্গণে প্রাইভেটকারে করে আসতে তার সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা। মেলার আনন্দ যানজটে শেষ। ঢাকা বাইপাস সড়কের যানজট নিরসন করতে না পারলে মেলার ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অপারেশন ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, এবার মেলায় ই-টিকেটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি বিকেল থেকেই কয়েক হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহ করে মেলায় প্রবেশ করেছেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, মেলায় নিয়োজিত ম্যাজিট্রেটগণ দফায় দফায় স্টলগুলো পরিদর্শন করছেন। অনিয়ম পেলেই জরিমানা আদায় করছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনের সহায়তার জন্য এ মেলার আয়োজন করা হয়। দিন দিন মেলা জমে উঠছে। তাতে মেলার ব্যবসায়ীরা খুশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো(ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ৩জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এবারের বাণিজ্য মেলা ৩১জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এবছর মেলার প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৫০টাকা এবং শিশুদের ২৫টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ মূল্য ছাড়াই মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।








