পূর্বাচল ৩০০ ফিটে কৃষকের বাজার
১০অক্টোবর শুক্রবার উদ্বোধন
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইয়া, স্টাফ রিপোর্টার রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জঃ
রাজউকের পূর্বাচল উপশহরের ৩০০ ফিট সড়কের পাশে বৌড়া এলাকায় পুলিশ হাউজিং গেট সংলগ্ন ১২বিঘা জমিতে গড়ে তোলা কৃষকের বাজার আজ ১০অক্টোবর শুক্রবার উদ্বোধন করা হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম কমাতে এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্যে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে এ বাজার চালু করা হচ্ছে। বাজারে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শিত থাকবে। যা দেখে ক্রেতারা সহজে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।
ফার্মার্স মার্কেট লিমিটেডের এ বাজারে কৃষকরা সরাসরি নিজেদের উৎপাদিত শাক-সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, মাছ, মাংস, ডিম, পটল, লাউ, বেগুন, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মরিচ, পেঁপে, বেগুন ও ফলসহ নানা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এখানে ২০ টাকা বা তার চেয়েও কম দামে মিলবে সবজি। বেসরকারি খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা এ বাজার চালু করতে যাচ্ছে।
ক্রেতারা তাজা ও সাশ্রয়ে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। বাজারে পাইকারি ও খুচরা উভয় ধরণের ক্রেতার জন্যই ব্যবস্থা থাকবে। কৃষকের বাজার থেকে ভোক্তারা অন্য সব বাজারের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন। ফড়িয়া থেকে আড়তদার, আড়তদার থেকে পাইকারি, পাইকারি থেকে খুচরা এভাবেই পণ্যের দাম বাড়ে। এখানে সরাসরি কৃষকের সঙ্গে ক্রেতাদের ন্যায্য মূল্যে পণ্য কেনা-বেচা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৩০০ফিট সড়কের উত্তর পাশে বৌড়া এলাকায় পুলিশ হাউজিং গেট সংলগ্ন স্থানে কৃষকের বাজারের স্থাপনা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, মাছ-মাংস বিক্রির জন্য আলাদা করে বড় বড় শেড তৈরির কাজও শেষ। গরু ও মুরগির মাংস বিক্রির জন্যও আলাদা শেড করা হয়েছে। এখানে কৃষকদের জন্য বাজারব্যবস্থার পাশাপাশি ক্রেতাদের নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বাজারের একপাশে একটি ফুডকোর্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ ফুড কোর্টে প্রায় ৩০থেকে ৩৫টি ফাস্ট ফুডের দোকান থাকবে। সাত হাজার বর্গফুটের একটি সুপারশপও করা হচ্ছে। কয়েকজন উদ্যোক্তা মিলে কৃষকের বাজারটি বাস্তবায়ন করছেন। জায়গাটি আগামী ১০ বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছেন তাঁরা। এরই মধ্যে বাজারের অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ২০কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন।
কৃষকের বাজারের প্রধান উদ্যোক্তা সুমন হাওলাদার বলেন, ঢাকায় বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে কৃষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে কম দামে ভালোমানের পায় সেটিও নিশ্চিত করা হবে। বাজারে কৃষকদের জন্য প্রায় ৫০০ আড়ত থাকবে। এসব আড়তে পাইকারি ও খুচরা দরে পণ্য বিক্রি করা হবে। ক্রেতারা অ্যাপস এবং ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে অর্ডার করে ফ্রি ডেলিভারির পণ্য কিনতে পারবেন। ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে ডেলিভারির জন্য ৫০টি নিজস্ব গাড়ি থাকবে। থাকবে শতাধিক মোটরসাইকেল।
কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, এই বাজারটি কৃষকের বাজার নামে পরিচিতি পাবে। ১৫ হাজার কৃষক ১৮ হাজার পোলট্রি খামারিদের তালিকা করা হচ্ছে। এই বাজারে শুধু শাক-সবজিই নয়, কৃষকের উৎপাদিত অন্যান্য পণ্যও বিক্রি করা হবে। প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, ভোক্তাদের স্বস্তি, উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সেতুবন্ধের জন্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বাজার ব্যবস্থাকে যদি কৃষকের অনুক‚লে নেওয়া যায় তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হবে। বিপণন ব্যবস্থা ত্রæটিযুক্ত থাকায় কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফড়িয়া থেকে আড়তদার, আড়তদার থেকে পাইকারি, পাইকারি থেকে খুচরা এভাবেই পণ্যের দাম বাড়ে। তবে কৃষকের কাছ থেকে ক্রেতা পণ্য ক্রয় করতে পারলে দুইপক্ষই লাভবান হবেন।








