চাঞ্চল্যকর শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন জিসান হত্যা
মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শাওন গ্রেফতার
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার শেরে-ই- বাংলা নগর থানার শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন জিসান চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শ্রাবন ওরফে শাওনকে ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন এলাকা গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। রবিবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১১ ‘র অফিসার মো: গোলাম মোর্শেদ সোমবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তিনি জানান,নিহত: ইসমাইল হোসেন জিসান, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি ‘পাঠাও’ রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করতেন। ২০১৯ সালের ১২ মে মোটরসাইকেল নিয়ে শ্যামলীর বাসা থেকে শিক্ষার্থী জিসান বের হন। সেদিন বাসায় না ফিরলে পরদিন তাঁর বাবা সাব্বির হোসেন শের-ই-বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের ১১ দিন পর ২৩ মে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকার একটি বাসার সেফটি ট্যাংক থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা সাব্বির হোসেন সহিদ বাদী হয়ে রাজধানীর শের-ই- বাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ইসমাইল হোসেন জিসান ঢাকার শেরে বাংলা নগরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
সাড়ে পাঁচ বছর ধরে বিচারকার্য শেষে মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত ৫ জানুয়ারি রবিবার ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হাসিবুল হোসেন ওরফে হাসিব, শ্রাবণ ওরফে শাওন ও আব্দুল্লাহ আল নোমান। এদের মধ্যে শাওন পলাতক ছিলেন। তাঁরা তিনজনই বন্ধু।
মামলা থেকে খালাস পেয়েছে সজনী আক্তার নামের একজন। রায় ঘোষণার পর হাসিবুল ও আব্দুল্লাহ আল নোমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব আরো জানান,মামলার প্রধান আসামি হাসিবুল হোসেন সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইসমাইল হোসেনকে অফ লাইনে ৮০০ টাকায় গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাড়া করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মামলার আরেক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমান জুস কেনেন। পরে ইসমাইলকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যান হাসিবুল। ইফতারির সময় ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত জুস ইসমাইলকে খাওয়ানো হয়। পরে অচেতন হয়ে পড়লে তাঁরা শ্বাস রুদ্ধ করে ইসমাইলকে হত্যা করেন। পরে তাঁর মরদেহ সেফটিক ট্যাংকের ভেতর ফেলে দিয়ে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান।








