ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে
মাসুদুজ্জামান কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশিষ্ট শিল্পপতি দানবীর ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আসার পর এবার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন করে আলোরণ সৃষ্টি করলেন। শহরের বরফকল মাঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ছিল এ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে নাগরিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েমাসুদুজ্জামান কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন?
শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ ব্যবসার পাশাপাশি সক্রিয় মাঠের রাজনীতিতেও। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থীও হবেন তিনি। গত কয়েকমাস ধরে আলোচনার শীর্ষে থাকা মাসুদুজ্জামান আবার আলোচনায় ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে। শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে শহরের বরফকল এলাকায় এ আয়োজন করেছেন তিনি। ঈদুল আযহা পরবর্তী এ আয়োজনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আমন্ত্রিত।

ইতোমধ্যে মাসুদুজ্জামানের এ আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে নাগরিক মহলেও চলছে আলোচনা। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সম্ভাব্য এ প্রার্থী সম্প্রতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন করে সকলের নজর নিজের দিকে নিয়ে যাওয়ার পর ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি কী বার্তা দিতে চান, তাও রাজনৈতিক মহলে কৌতুহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে, মাসুদুজ্জামানের এ ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন নিয়ে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। যদিও এর আগেও তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক, নাগরিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দকে এক প্ল্যাটফর্মে জড়ো করেছিলেন ‘আমার নারায়ণগঞ্জ’ নামে একটি নাগরিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে।
মাসুদুজ্জামান মাসুদ মডেল ডি ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি শুধু ব্যবসায়ী নন, তিনি সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গণে রাখছেন বিশেষ ভূমিকা। তবে মাসুদুজ্জামান বিগত সময়ে ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে থাকলেও এবার রাজনীতির মাঠে আলোচিত হচ্ছেন তিনি। এক সময়ের যুবদল নেতা দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও নেপথ্যে দলের জন্য কাজ করেছেন। দুর্দিনে ছিলেন বিএনপির অন্যতম অর্থ যোগানদাতা। তার রাজনীতির মাঠে নামার ঘোষণায় ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনায় রাখছেন স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী রাজনীতিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে রাজনৈতিক কোনো পদে না থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিত তিনি। বিএনপির হাই-কমান্ড থেকে গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে বলে দাবি তার অনুসারীদের।
তার সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিন সমাজসেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখে নারায়ণগঞ্জবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
করোনাকালের দুর্যোগ থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি সংকটে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের পাশে থাকা এ দানবীর, ক্রীড়া সংগঠক ও শিল্প উদ্যোক্তা এখন রাজনীতিতে। দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতির মাঠে পা না রাখলেও জনসমর্থনের জোয়ার তাকে টেনে নিচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বের কেন্দ্রে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে শহরের দেয়ালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে একটাই বার্তা- জনতার পাশে থাকা এ মানুষটিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় মানুষ।
তাকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান জানিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যাম্পেইনও শুরু করেছেন। নারায়ণগঞ্জের বিদ্যমান নাগরিক সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি ‘আমার নারায়ণগঞ্জ’ নামে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মও দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
তার সমর্থকরা বলেন, বিগত দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সম্পূর্ণ সমর্থন ছিল মাসুদুজ্জামানের। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের ও আন্দোলনকারীদের পাশে থেকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের বন্যা পরিস্থিতিতেও তিনি বন্যা-দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আন্দোলনে হতাহতদের আর্থিক সহযোগিতাও দিয়েছেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষে সবসময় দাঁড়ানো এ সমাজসেবীর বিগত কর্মকাণ্ডের ভূমিকা, অবদান এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে আগামীতে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান বলে জানান তার সমর্থকরা। তিনি রাজনীতিতে এলে মানুষের উপকার হবে বলেই মনে করেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তবে, তার এই রাজনীতিতে আগমনের বিষয়টি ‘সহজে’ নিচ্ছেন না নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। সরাসরি তাকে নিয়ে কথা না বললেও আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, মাসুদুজ্জামানের এ পথ সহজ হবে না। বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে তারাও হবেন প্রতিদ্বন্দী।
সম্প্রতি মাসুদুজ্জামানের রাজনীতিতে আসা ও মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টিকে সামনে এনে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে, তাদের দু’জন এক বাক্যে একমত হয়েছেন যে, ‘দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবেন’।
স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোনো পদে না থাকলেও তিনি এখন রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। মাসুদুজ্জামানের বিভিন্ন আলোচিত কার্যক্রম যেমন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনে আশার সঞ্চার জাগাচ্ছে, তেমনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের যেমন ভাবিয়ে তুলছে। ফলে, শনিবারের ঈদ পুনর্মিলনীর এ আয়োজনে নজর থাকবে সকলের। সব মিলিয়ে এই ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনীতির ময়দানে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।








