উন্নত সেবার নতুন দিগন্ত:
নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালের নতুন ভবনে আউটডোর সেবা চালু
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে বহির্বিভাগের (আউটডোর) চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার থেকে নতুন এই ভবনে রোগীদের আউটডোর সেবা প্রদান শুরু হওয়ায় জেলার স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এর মাধ্যমে পুরাতন ভবনের ভিড় ও চাপ কমিয়ে রোগীদের আরও উন্নত ও স্বাচ্ছন্দদায়ক পরিবেশে সেবা প্রদান নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করনে সংশ্লষ্টিরা।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক, স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ আবুল বাসার বলেন,পুরাতন ভবনে স্থান সংকুলান ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে বহির্বিভাগে আসা রোগী এবং চিকিৎসক উভয়কেই ভোগান্তির শিকার হতে হতে হয়। এই সমস্যা নিরসনে নির্মিত নতুন ভবনটি চালুর মাধ্যমে রোগীদের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমবে এবং সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
নতুন ভবনে বহির্বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক, স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ আবুল বাসার আরো বলেন, পুরাতন ভবনে রোগীদের কষ্ট লাঘব করার জন্যই আমরা নতুন ভবনে আউটডোর সেবা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ পরীক্ষামূলকভাবে (ট্রায়াল) সেবা চালু করা হয়েছে। ১৭ তলা ফাউন্ডেশনের এই ভবনটির কাজ বর্তমানে ৪ তলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ২৮ জন চিকিৎসকের বসার সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রথম দিনেই ২৫ জন চিকিৎসক বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা প্রদান করেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, এই উদ্যোগের ফলে রোগীরা এখন আরও খোলামেলা ও আরামদায়ক পরিবেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারবেন, যা তাদের দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক হবে।
এদিকে, নতুন ভবনে আউটডোর সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে খানপুর হাসপাতাল শুধু অবকাঠামোগতভাবেই নয়, বরং প্রকৃত অর্থেই ভালো সেবা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রীর প্রতীক হিসেবে ১৯৮৬ সালে ২০০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এটিকে ৩০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ সামলাতে হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৫০০ শয্যার অনুমোদন পেলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট, কার্ডিওলজি বিভাগ, সিসিইউ, আইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস বিভাগ, নিউরোলজি বিভাগসহ একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট চালু করা হবে। কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত লক্ষ্য, জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় হাসপাতালটিকে একটি মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করে নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।#








