কর্মবিরতি: শুক্রবার থেকে

মেট্টোরেল বন্ধ রাখার ঘোষণা

 

Tnntv24.অনলাইন ডেক্স:

কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দীর্ঘ ১২ বছরেও স্থায়ী চাকরি-বিধিমালা (সার্ভিস রুল) প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক। পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়ায় শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সব ধরনের যাত্রীসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর ফলে অচল হয়ে পড়তে পারে ঢাকার অন্যতম গণপরিবহন মেট্রোরেল।

ডিএমটিসিএল কর্মচারীরা বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা জানান। একই সঙ্গে তারা প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেন।

আন্দোলনরত কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠিত হলেও গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানের ৯০০’র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর উন্মুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া কর্মীরা দিন-রাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ তারা ছুটি, কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ), গ্র্যাচুইটি, শিফট অ্যালাউন্স, ওভারটাইম এবং গ্রুপ ইনস্যুরেন্সের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

কর্মচারীরা জানান, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা ছিল ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়ন করার, যা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মীরা আন্দোলনে নামলে, কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের নয় মাস পার হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বিধিমালা প্রকাশের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, যা কর্তৃপক্ষ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন ও দীর্ঘসূত্রিতায় পুনরায় আন্দোলনে নেমেছেন তারা।

কর্মচারীদের দাবি, চাকরি-বিধিমালা ছাড়া ক্যারিয়ার, বেতন-সুবিধা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত নয়। তাই আর কোনো আশ্বাস নয়, প্রকাশিত সার্ভিস রুল ছাড়া কোনো সমাধান নয়।

এই কর্মবিরতির ফলে মেট্রোরেল ব্যবহারকারী লক্ষাধিক যাত্রীর চরম ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্মচারীরা বলেন, ‘মেট্রোরেলের দৈনন্দিন কয়েক লাখ যাত্রীর ভোগান্তির সম্পূর্ণ দায় ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। আমরা বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।’

এর আগে, গত মঙ্গলবার সকালেও দিয়াবাড়ি মেট্রো রেলভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে শুক্রবার থেকে তারা লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।