তিনশ আসনেই একক ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুুতি
নিচ্ছে এনসিপি – আহবায়ক নাহিদ ইসলাম
Tnntv24,নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট ভাবে বলছি যে আমরা (এনসিপি ) একক ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সে ক্ষেত্রে আমার তিনশ
আসনই আমাদের লক্ষ। ফ্যাসিবাদ বিরোধী ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যারা অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন সেটা খালেদা জিয়ার কথা আমাদের নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি বলেছেন। ওনাদের সম্মানে আমরা হয়তো ওইসব
আসনে মনোনয়ন দেবোনা। বাকি সবগুলো আসনেই আমার শাপলা কলি প্রতিকে প্রার্থী দিবো।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় প্রয়াত জুলাই যোদ্ধার গাজী সালাহ উদ্দিনের পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা প্রকাশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমরা আহবান জানিয়েছি বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনের যে সংস্কৃতি আমার দেখি বর্তমানে রাজনীতিতে পেশী শক্তি, কালো টাকার মালিক,
স্থানীয়ভাবে যারা গডফাদারগিরি করে তারা নির্বাচনে দাড়ায়। সেই অপসংস্কৃতি চ্যালেঞ্জ করতে চাই। যারা খেটে খাওয়া মানুষ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, সাধারণ মানুষের পাশে থাকে, এমন ব্যক্তিকে আমরা
জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই। সেই উদ্দ্যোশেই আমরা কাজ করছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমঝোতা বা জোট রাজনৈতিক আদর্শিক জায়গা থেকে হতে পারে । জুলাই সনদে সংস্কারে বিষয়ে যে দাবিগুলো দিয়েছি তার সাথে কোন দল ঐক্যবদ্ধ বা
সহমত প্রকাশ করে তাদের সাথে জোটের বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করবো। তবে আমরা এখন পর্যন্ত একক ভাবেই নির্বাচনের জন্য এগুচ্ছি। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এনসিপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায়ত জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন,একজন অকুতভয় সৈনিক ছিলেন গাজী সালাউদ্দিন। গনঅভুত্থান চলাকালিন সময়ে পুলিশের গুলিতে
তার চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো । পুলিশের ছড়ড়াগুলি গলায় বিদ্ধ হয়েছিলো। এই দু:সহ যন্ত্রনা নিয়ে গনঅভুন্থানের পরে এতগুলো দিন তাকে অতিবাহিত করতে হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর তিনি ইন্তেকাল করেন ।গাজী সালাউদ্দিনের এই মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। তিনি বলেন, হাজারো জুলাই গনঅভ্যুত্থনের যোদ্ধারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অনঅভ্যুত্থনের আহত যোদ্ধাদের
চিকিৎসার দায়িত্ব এই অন্তবর্তী সরকারের ছিলো । কিন্তু সরকার তা সম্পূর্ণ রুপে পালন করতে পারেনি বলেই আমাদের লাশের সারি বাড়ছে। মৃত্যু বা শহীদের সংখ্যা বাড়ছে। নাহিদ ইসলাম অর্ন্তবর্তী সরকারের উদ্দ্যোশে বলেন, আমরা সকারেরর কাছে স্পট ভাবে বলতে চাই আহত জুলাই যোদ্ধা যারা রয়েছেন ,এখনো যারা বাদ যাচ্ছেন, যাদের শরীলে স্পিন্টার রয়েছে,ননা ভাবে অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের সর্বাত্রক ভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা চিকিৎসা দিতে হবে। অনেকের র্দীঘ মেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন । সাময়িক চিকিৎসা হয়তো সাবাই পেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী যে চিকিৎসার প্রয়োজন তা অনেকে পায়নি। চিকিৎসাগুলো যদি
অব্যহত না থাকে তবে মৃত্যুর মিছিল কিন্তু বাড়তেই থাকবে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে আমরা যেন শহীদ পরিবারের কথা , আহত জুলাই যোদ্ধাদের কথা ভুলে না যাই। আহত জুলাই যোদ্ধাদের
স্বাস্থ্য সুবিধার কথা যেটা বলা হয়েছে এটা নিয়ে নানা অভিযোগ আছে।
পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যেই আসুক না কেন আমাদের চিকিৎসা যাতে অব্যহত থাকে সেই কমিটমেন্ট যেন সব দলের মধ্যে থাকে। তিনি বলেন, গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারর সাথে আমরা আছি । সরকারের কাছে আহবান জানাবো গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের দায়িত্ব যেন সরকার নেয়। ওনার দুটি সন্তান রয়েছে। ওনার স্ত্রী অসুস্থ। একটি কথা শুনতে পেয়েছি মৃত্যুর কয়েকদিন আগে কোন একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় কর্মীদ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এমন জুলাই যোদ্ধারা যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা রাজনৈতিক নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি সব সময় পাশে আছি। কিন্তু সরকার এবং সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিতে হবে ফ্যাসিবার্দী লড়াইয়ে গিয়ে ক্ষতির স্বীকার হয়েছে বলেই কিন্তু ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে।
তাদের প্রতি সেই সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ আমাদের যেন থাকে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে বলেন,আমরা শুনেছি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। থানা পুলিশ পর্যন্ত গিয়েছিলো। আর আওয়ামীলীগ দ্বারাতো জুলাই
যোদ্ধারা সব সময়ই একটা থ্রেডের মধ্যে থাকে। আমার এমন অভিযোগ অনেক পরিবারের কাছ থেকেই পেয়েছি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আল আমিন, আহমেদুর রহমান তনুসহ আরো অনেকে।








