রেলওয়ের উচ্ছেদ হুমকির প্রতিবাদে
নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়ায় কয়েক শত ব্যাক্তিমালিকানাধীন প্রায় পাঁচ একর জমি রেলওয়ের দাবি করে রেলকর্তৃক উচ্ছেদের পায়তারা করছে অভিযোগ উঠেছে। আর এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার দুপুরে চাষাড়ার রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চাষাঢ়া ইসদাইর সংযোগ সড়কে মানববন্ধন এবং বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ওই এলাকাবাসী।
মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন,আমাদের জমিগুলো সি এস রেকর্ড হইতে আর এস রেকর্ড পর্যন্ত, তিনটি পর্চায় সম্পূর্ন ব্যাক্তি মালিকানায় রেকর্ড রয়েছে। আমরা নিয়মিত সরকারকে খাজনা, ট্যাক্স প্রদান করে আসছি। প্রায় ২ একর জমিতে অন্তত ৮০ টি বসতবাড়ি রাজউকের প্লান পাস করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার অনুমোদিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তায় আরবান স্কুল,মহিলা মাদরাসাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এই এলাকায় কয়েক দশক ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি কতগুলো পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আল নোমান অভিযোগ করে বলেন,সম্প্রতি রেলওয়ের নাম নিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য মাইকিং সহ লাল রং দ্বারা বিভিন্ন জাগায় স্থাপনা চিহ্নিত করে ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তিতে উচ্ছেদের হুমকি প্রদান করছে। আমারা তাদের কাছে লিখিত নেটিশ চাইলে তারা বলে আমাদের জমি আমরা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাবো আমরা কাউকে উচ্ছেদের নোটিশ দিবো না।
তারা মৌখিকভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যে তিন তারিখের মধ্যে আমাদেরকে জমি ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় ৪ সেপ্টেম্বর তারা আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করবে। আরো বলে এই জমিতে বসবাস করতে হলে রেল হইতে লিজ নিয়ে বসবাস করতে হবে। এমনকি উচ্ছেদের সময় আমাদের কোন কাগজপত্র দেখাবেনা। তাদের এই আচরণ এবং হুমকি আমাদেরকে আতঙ্কিত করেছে।
আর রহস্যজনক বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে কমলাপুরের, ঢাকার ফিল্ড কানুনগো মো: জিয়াউল হক ব্যক্তিমালিকাধীন জায়গার একাধিক মালিককে তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন। ভিজিটিং কার্ডে তার মোবাইল নম্বর রয়েছে ০১৭১৬১৪৭৪০১, ০১৮১১১৫৭৭০০ ই-মেইল : fkgojia@gmail.com । ফলে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ।
পঞ্চায়েত কমিটির অপর সদস্য মোমেনুর রহমান খান বলেন, সরকারী এই কর্মকর্তা অবৈধ উপায়ে মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন,এর আগে ২০১৭ সালে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ডাবল রেল লাইনের কাজের সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হয়েছে। তখন আমাদের জমি রেলওয়ের কোন দাবি করেনি এবং কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। রেলের নিজস্ব অধিগ্রহনকৃত জায়গাতে কাজ চলমান। তবে এখন কেন এই অভিযানের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই বাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাাসকের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছেন বলেও দাবি করলেন সংবাদ সম্মেলনে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করতে আসলে যদি আইনশৃংখলার অবনতি ঘটে তার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন দায়ী থাকবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন মানববন্ধনের বক্তারা। #








