রূপগঞ্জে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিএনপির মাইকিং,
চাঁদা না দিতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে চাঁদা না দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় মাইকিং করে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেওয়া হয়, কেউ যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চাঁদা না দেয়। যদি কেউ চাঁদা দাবি করে, তাহলে তাকে আটক করে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দিতে অথবা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অবহিত করতে বলা হয়।
মাইকিং ঘোষণায় আরও বলা হয়, চাঁদাবাজি একটি গুরুতর সামাজিক ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের ওপর ভয়ভীতি তৈরি করতেই একটি চক্র এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকে। এসব অপকর্ম রুখে দিতে জনগণকে সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন,চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান স্পষ্ট। দল বা পরিচয়ের আড়ালে কেউ যদি জনগণের ঘাম ঝরানো টাকার ওপর হাত দেয়, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজ আমার রক্তের কেউ হলেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রূপগঞ্জে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না।
তিনি আরও বলেন,জনগণ যেন ভয় না পায়। কেউ চাঁদা চাইলে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন বা আমাদের অবহিত করবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রূপগঞ্জকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, এমপি দিপু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকায় অপরাধ দমনে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই মাইকিং কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মাইকিং চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজদের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘোষণা চাঁদাবাজদের জন্য একটি শক্ত বার্তা এবং সাধারণ মানুষের সাহস বাড়াবে।
এলাকাবাসীর মতে, যদি এই উদ্যোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে রূপগঞ্জে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত এমপির নেতৃত্বে রূপগঞ্জে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে রূপগঞ্জ উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও চাঁদাবাজি বিরোধী মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”








