চীনা পণ্যের প্রভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম কামারশালা /
হারিয়ে যাচ্ছে রূপগঞ্জের কামার শিল্প
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইয়া নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বছর আগেও দেখা গেছে, মা-চাচিরা দা, বঁটি ব্যবহার করতেন| আর এখন সেই জায়গায় দখল করেছে চায়না ছুরি, চাপাটি,বটি। হরি গোপাল বলেন, “আগে অনেক কামারশালা ছিল অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। আমি কম করে ৩০-৪০ বছর এই ব্যবসায় রয়েছি, বাবা ঠাকুরদা সবাই এই কাজই করতেন। মানুষ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা শুরু করেছেন।
দেশের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচাতে বিদেশি লৌহজাত পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ জরুরি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একটা সময় দেখা যেত আগুনে পুড়িয়ে নরম করা টকটকে লাল লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র তৈরি করছেন কামাররা লোহায় একের পর এক আঘাত করে বিভিন্ন আকৃতির যন্ত্র ˆতৈরি করছেন তারা| দা,বটি, ছুরি, ছোরা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার ˆতৈরিতে ব্যস্ত কামাররা,এখন এ সবই স্মৃতি| এ শিল্পের মূল উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে গেছে।
আগে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় এক বস্তা কাঠ-কয়লা পাওয়া যেত| এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়| ফলে যন্ত্র ˆতৈরি ব্যয় বেড়েছে| জয় মা কর্মশালার নিরঞ্জন বলেন, এখন ঈদেও বিক্রি তেমন জমে না| কাস্টমাররা দাম বেশি বলে কিনতে চায় না। কম দামে চায়না তৈরি লোহার জিনিসপত্র কিনছে অধিকাংশ কাস্টমার।
কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও বিদেশি ছুরি-কাচিতে সয়লাব বাজার, চাকচিক্য পণ্যে ক্রেতা আগ্রহ বাড়ায় কমেছে দেশিয় লোহার ˆতৈরি পণ্যের চাহিদা, লোকসানে কামারপল্লী। লোহা ও কয়লার দাম বেশি থাকায় কামারদের ˆতৈরি জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান কামারপলীর ব্যবসায়ীরা। দেশীয় যন্ত্রপাতির চেয়ে চাইনিজ যন্ত্রপাতির দাম কিছুটা কম।
নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, এখন এ পেশার রোজগারে সংসার চলাই যেন দায়। দোকান খুলে সারাদিন বসে থাকলেও কাজের অর্ডার আসে না| তাই কাটাতে হয় অলস সময়। নিখিল চন্দ্র একাই নন, এ পেশায় জড়িত প্রায় সবার অবস্থা একই।
প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন গৃহস্থালি ও কৃষি যন্ত্রপাতি দা, বটি, চাকুর জন্য কামারদের ওপরই নির্ভর করতে হতো| দাম কিছুটা বেশি হলেও দেশীয় এসব লৌহজাত পণ্যের মান ছিল ভাল| তবে কালের বিবর্তনে কামারদের ˆতৈরি লোহার পণ্যের জায়গা দখলে নিয়েছে ভিনদেশি পণ্য| উৎপাদন কমেছে কামারপল্লীতে। শিল্পে জড়িতদের দিন কাটছে অর্থকষ্টে অনেকেই বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন।
স্থানীয় কামাররা জানান, লোহার পণ্যের মান ভালো হলেও চায়নার পণ্য দেখতে আকর্ষণীয়, দামেও কম, প্রচার প্রচারণা বেশি। দেশি পণ্যেরও প্রচার কম, দাম বেশি, তাই ক্রেতারা ঝুঁকছেন বিদেশি পণ্যের দিকে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন দেশের আদি এ শিল্পকে বাঁচাতে দরকার যথাযথ সরকারী পদক্ষেপ উপজেলার কামার সমিতির সভাপতি কালিপ্রদ রায় বলেন, বাজারে আগে অনেক কামার শিল্প ছিল। এখন সেগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে, সরকারের কাছে ঐতিহ্যবাহী এই কামার শিল্প বাঁচিয়ে রাখার জন্য আহ্বান কামারপল্লীর ব্যবসায়ীদের।








