নারায়ণগঞ্জের হকার পুনর্বাসন কী
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ নগরের বি বি রোডের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে দুই নম্বর গেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেললাইনের পাশের জমি নির্ধারণ করেছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (এনসিসি)। ওই জমিতে গত কয়েকদিন ধরে হকারদের জন্য ওই জমিতে বালু ফেলে ইট বিছিয়ে প্রস্তুতের কাজ চললেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাতে বাধা দিয়েছে।
এ নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এনসিসির প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিন, সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন (ডাবল রেললাইন) প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রউফের নেতৃত্বে রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
রেলওয়ের উচ্ছেদ কর্মীরা বিদ্যমান রেললাইনের দুইপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো এক্সাভেটর (ভেকু) দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেন। একইসঙ্গে রেলের জমিতে সিটি কর্পোরেশনের চলমান হকার পুনর্বাসনের কাজেও তারা বাধা দিয়ে সেখানে বিছানো ইট তুলে ফেলেন তারা।
খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি এ সময় বিছানো ইটগুলো তুলে ফেলায় রেলওয়ে কর্মকর্তা সেলিম রউফের উপর ক্ষুব্ধও হন।
ওই সময় সাখাওয়াত হোসেনকে বলতে শোনা যায়, “আমি ভদ্র মানুষ বলে, নাহলে এখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যেত। আওয়ামী লীগের লোকেরা বিভিন্ন মার্কেট কইরা রেলওয়ের জায়গা দখল করে রেখেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তো আপনারা কিছু করছেন না। আমরা তো একটা সরকারি সংস্থা। আপনাদের এই জায়গার প্রয়োজন হলে আপনি এসে আমার সাথে কথা বলবেন, পরামর্শ করবেন। তা না করে আপনারা হঠাৎ এসে ভেকু লাগিয়ে সব গুঁড়িয়ে দিলেন।”
এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, “এই রেলওয়ে কার? সরকারের এবং জনগণের তো? এই উন্নয়ন আমাদের স্বার্থেই হচ্ছে। আমিও তো সরকারের প্রতিনিধি, সরকারের এত বড় প্রকল্পে বিঘ্ন ঘটানোর অধিকার কি আমার আছে? এটাও জনগণের স্বার্থেই করা হচ্ছিল। এখানে তো স্থায়ী কিছু করা হয়নি, শুধু ইট বিছানো হয়েছিল, যা আপনাদের কাজেও লাগবে।”
এ সময় রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক সেলিম রউফ এনসিসি প্রশাসককে বলেন, “এখানে জমিটি যদি আমি ফ্রি করে না দেই ঠিকাদার তো কাজ করতে পারবে না।”
অন্যদিকে, হকার পুনর্বাসনের জন্য বিছানো ইটগুলো আর না তুলে রেলওয়ের ওই কর্মকর্তাকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চলমান রাখার পরামর্শ দেন প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। সাখাওয়াত বলেন, “আপনাদের যখন এই জায়গার প্রয়োজন হবে, আমাকে বলবেন, আমি নিজে এসে জায়গা হস্তান্তর করে দিব।”
পরে সেলিম রউফ সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে, যেখানে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ স্টেশন পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। আমরা এসে দেখলাম, আমাদের প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্টের ওপর কে বা কারা রাস্তা সোলিং করেছে এবং ঘর তুলে রেখেছে। যেখানে আমাদের নতুন ডুয়েলগেজ লাইন বসবে সেখানে। ইতোমধ্যে চাষাঢ়া এবং নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন উভয় দিক থেকেই আমাদের কাজ এগিয়ে এসেছে। তাই রেলওয়ে আইন অনুযায়ী আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।”
এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো সাতদিনের মধ্যে ডাবল রেললাইনের প্রকল্পের জমির উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাতদিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল।
অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ও আশেপাশের সড়ক এবং সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানো হকারদের উচ্ছেদে যৌথ উদ্যোগ নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসন। এ কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও।
তবে, হকারদের সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের কয়েকদিনের মাথায় আবারো তারা বসতে শুরু করে। তখন ওঠে পুনর্বাসনের দাবি। হকার পুনর্বাসনের জন্য কয়েকটি জায়গার প্রস্তাব আসলেও সম্প্রতি এনসিসি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন প্রাথমিকভাবে রেললাইনের পাশে খালি পড়ে থাকা জমিতে বঙ্গবন্ধু সড়কের হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই রেলের জমিতে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করে সেখানে বালু ফেলে ইট বিছানোর কাজ চলছিল।
তবে, রেলওয়ের এই বাধার মুখে হকারদের পুনর্বাসনের এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে কিনা তা নিয়েও াআঙ্কা দেখা দিয়েছে।








