সংবাদ সম্মেলন: মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে
‘ওশান এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ওশান টেক্স’-এর সিইও মো. তৈয়ব মিয়ার বিরুদ্ধে
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রায় ৩ শতাংশ মূল্যবান জমি জবরদখল, নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণ এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ‘ওশান এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ওশান টেক্স’-এর সিইও মো. তৈয়ব মিয়ার বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার (০৫ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ভূমি মালিক এইচ. এ. এম. মাহমুদুর রহমান লিখিত বক্তব্যে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ফতুল্লা থানাধীন দাপা ইদ্রাকপুর মৌজার আর.এস. ১৩০ ও ১৩১ নং দাগে এইচ. এ. এম. মাহমুদুর রহমান (৭ শতাংশ) ও মনোয়ার হোসেন মৃদুল (৯ শতাংশ) মোট ১৬ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। ২০২২ সালে তৈয়ব মিয়া পার্শ্ববর্তী ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও যৌথ সার্ভেয়ারের মাপজোখে দেখা যায়, তিনি ১৭.৬১ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে আছেন। পাশাপাশি রাস্তার জন্য আরও ৩ শতাংশ জমি দখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সমস্যা সমাধানের জন্য জমি বিনিময়, বাজারমূল্যে ক্রয় কিংবা পুরো জমি বিক্রয়ের একাধিক যৌক্তিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও তৈয়ব মিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, তৈয়ব মিয়া নিজের প্রতিষ্ঠানকে ‘ফুললি এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড জাপান বেজড ফ্যাক্টরি’ দাবি করলেও বাস্তবে তিনি বিকেএমইএ (BKMEA) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (BGBA) নিষ্ক্রিয় ও মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্য। ২০২৪ সালের পর থেকে তাঁর কোনো নবায়ন নেই। এমনকি শতভাগ জাপানি কোম্পানি ‘কে-টু লজিস্টিকস’ (K-2 Logistics) লিখিতভাবে জানিয়েছে যে, কোনো পরিকাঠামো বা রাস্তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তাদের কোনো অর্ডার বাতিল হয়নি এবং গত নভেম্বর ২০২৫ এর পর থেকেই তাঁর ফ্যাক্টরি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তৈয়ব মিয়া রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও বিল্ডিং কোড না মেনে সীমানা ঘেঁষে অবৈধ ভবন নির্মাণ করেছেন। অন্যদিকে, জমি হাতিয়ে নিতে তিনি ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ডাকাতি মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তে ডাকাতি মামলাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট প্রমাণিত হয় এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এছাড়া, গত ২ জুন ২০২৬ তারিখের কথিত একটি হামলার ঘটনায় ফতুল্লায় মামলা করা হলেও কল রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে দেখা গেছে, ঘটনার সময় বাদী ও বিবাদী উভয়ই ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থান করছিলেন।
ভুক্তভোগী মাহমুদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আইন অনুযায়ী কোনো জমির ‘ইজমেন্ট রাইট’ বা সুফল ভোগের জন্য ন্যূনতম ২০ বছর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ মাত্র তিন-চার বছর ধরে ফাঁকা জায়গা ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে সেটিকে আজ চিরস্থায়ী অধিকার মনে করে ভুয়া প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’ ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে জমি উদ্ধার, ভুয়া এক্সপোর্টারের প্রতারণা এবং মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।








