নারায়ণগঞ্জ | | |
  সর্বশেষ
নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সন্তানসহ দেশের ছয় তরুণের প্রাণ গেলো সাউথ আফ্রিকার আগুনে।Tnntv24
সারাজীবন হত্যা, অত্যাচার জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আজ আমি কি আপরাধী – সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জে তালিকা করে রেললাইনের পাশে হকারদের পুনর্বাাসন করা হচ্ছে- এনসিসি প্রশাসক সাখাওয়াত।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পাঁচ ইউপি অন্তর্ভূক্ত করার গণশুনানির মতামত গুরুত্ব দিয়ে যাচাই বাছাই করা হবে-জেলা প্রশাসক। Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ:সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা।Tnntv24
রূপগঞ্জের দুইশত পরিবার আবারো উচ্ছেদ আতঙ্কে, অনাবাসিক জমিতে  প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি:Tnntv24
রূপগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা:Tnntv24
ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিলো সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হোসেনের প্রাণ।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। Tnntv24
এনডিএ চেয়ারম্যান রাজীবের আকাঙ্খা নতুন ভাবে বিনির্মান হবে নারায়ণগঞ্জ।Tnntv24
Next
Prev

নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সন্তানসহ দেশের ছয় তরুণের প্রাণ গেলো সাউথ আফ্রিকার আগুনে।Tnntv24

নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সন্তানসহ দেশের ছয় তরুণের প্রাণ গেলো সাউথ আফ্রিকার আগুনে।Tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সন্তানসহ দেশের ছয় তরুণের প্রাণ গেলো সাউথ আফ্রিকার আগুনে।Tnntv24

নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সন্তানসহ দেশের ছয় তরুণের

প্রাণ গেলো সাউথ আফ্রিকার আগুনে

Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:

কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যের হাতছানি ছিল তার সামনে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা তরুণ ফাহিম পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে ওই বয়সেই পাড়ি জমান সূদুর দক্ষিণ আফ্রিকায়। দশ বছর ধরে সেখানেই ছিলেন ২৮ বছর বয়সী এ তরুণ। এ বছরই কাগজপত্র ঠিক করে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার।

কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় কুইন্সটাউনে একটি দোকানে (সুপারশপ) আগুনে প্রাণ গেছে ফাহিমের। এ দোকানেই গত ১০ বছর ধরে চাকরি করতেন এ তরুণ।

ফাহিমের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামে। আগুনে মারা যাওয়া ছয়জনের তিনজনই এ গ্রামের বাসিন্দা।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটির মালিক রওশন আলী এ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই গ্রামের বাসিন্দা।

নিহত ছয়জনের তিনজনের বাড়িতে যান এ প্রতিবেদক।

বিকেলে ফাহিমের বাড়িতে গিয়ে শোকের মাতম দেখা যায়। আজ সকালে এ বাড়ির মানুষের ঘুম ভেঙেছে ফাহিমের মৃত্যুর খবরে।

ঘরের ভেতর আর্তনাদ করে কাঁদছিলেন ফাহিমের মা লুৎফুন্নেছা, ছোট দুই বোন মুনমন, মিম এবং জমজ দুই ভাই জাহিদ ও নাহিদ। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের কান্না যখন স্বজনরা থামাতে পারছিলেন তখন ফাহিমের বাবা মনির হোসেন ছিলেন পাশের ঘরে চুপচাপ বসা।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম পাঁচ সন্তানের বড়জনকে হারিয়ে নির্বাক মনির বলেন, “আমার কিছু বলার নাই। ঘুম ভাঙলো পোলার মৃত্যুর খবর শুইনা। আমি আর কী কমু!”

এই বলে আবারও চুপ হয়ে গেলেন এ পিতা। আশেপাশের স্বজনরা তাকে কান্না করে অন্তত ‘মনটা হালকা’ করার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু তাতেও কোনো বিকার দেখা গেল না মনিরের।

নিহত ফাহিমের ফুফাতো ভাই মো. আল-আমিন বলেন, “সুপারশপের কর্মীদের দেখাশোনারও দায়িত্ব ছিল ফাহিমের। পুরা দায়িত্বে ছিল সে। কাগজপত্র ঠিক কইরা কয়েকমাসের মধ্যে ফেরারও কথা ছিল। পুরা সংসারটা সেই চালাইতো। এত বছর বাইরে, বাড়ি ফিরে বিয়ে করবো। কিন্তু কিছুই তো আর হইলো না।”

এদিকে, ছেলের শোকে কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন একই ঘটনায় নিহত মো. আপনের মা আঁখি বেগম। ২০ বছর বয়সী আপন চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান।

আপনের মা ছেলের শোকে নিজেদের নির্মাণাধীন একতলা পাকাভবনের মেঝেতেই শুয়ে বিলাপ করছিলেন, “আমার পুতেরে আইন্না দেও। তোমরা কেউ আমার পুতেরে আইন্না দেও।”

আগেরদিনও ছোটভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল জানিয়ে বড়ভাই সৌদি প্রবাসী মো. জুয়েল বলেন, “আমার ভাইর স্বপ্ন ছিল বাড়িঘরটা পাকা করবো। সেই বাড়িতে বাবা-মারে নিয়া উঠবো। বাড়ি ঠিকই হইতেছে কিন্তু আমার ভাইর স্বপ্ন স্বপ্নই রইয়া গেল।”

কথাগুলো বলেই ঢুকরে কেঁদে ওঠেন জুয়েল। “যতটুকু শুনছি লাশ পুইড়া ছাই হইয়া গেছে। লাশ আনার কোনো ক্যাপাসিটি নাই। পোড়া লাশের ছাইটুকুও যদি আমাগোরে আনার ব্যবস্থা কইরা দেয়, তাইলে আমরা একটু কবর  দিতাম,” দাবি করেন তিনি।

শোকের পরিবেশ নিহত ৫৫ বছর বয়সী নূর মোহাম্মদের বাড়িতেও। তার তিন বোন রঙ মালা, আরিফা ও কনিকা খাটের উপর আহাজারি করছিলেন। আরেক ঘরে কাঁদছিলেন তার স্ত্রী কামরুন্নাহার।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যান নূর মোহাম্মদ। তার আগে সিঙ্গাপুরে বেশ কয়েক বছর চাকরি করেছেন তিনি। তার উপার্জনেই দুই কন্যা সায়মা ও সাদিয়াকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোটছেলে সিয়াম এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

নূর মোহাম্মদের ভাগনি মোসাম্মৎ ফিমা বলেন, “মামা দেশে ফিরবেন বলে ভাবছিলেন। আগেরদিনও তিনি কাগজপত্র করার জন্য গেছিলেন। জীবনের বেশি বছর বিদেশেই কাটাইছেন। আর ফেরার সময়ই তিনি ফিরেছতেছেন লাশ হইয়া।”

ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন এ ইউনিয়নের তৈলখিরারচর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের প্রয়াত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিন (২৬) ও মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া গ্রামের প্রয়াত সালাম বেপারীর ছেলে মো. রাজিক (৫৫)।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!