নারায়ণগঞ্জ: বাসভাড়া কমাতে সাত ছাত্র
সংগঠনের ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অতিরিক্ত বাস ভাড়া প্রত্যাহার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সাত ছাত্র সংগঠনের জোট ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী হাফ পাস চালুর দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটামসহ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
জোটভুক্ত সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহন ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করে। তাঁদের দাবি, বিআরটিএর নির্ধারিত হার ও দূরত্বের হিসাব অনুযায়ী ফ্লাইওভারের টোলসহ এ রুটে ভাড়া কোনোভাবেই ৫৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
ভাড়া কমানোর দাবি তোলার পর মালিকপক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করার কৌশল নিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা।
তাঁরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া অবিলম্বে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা কার্যকর করার দাবি জানান। পাশাপাশি সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো সময় পরিচয়পত্র দেখালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া এবং নিঃশর্ত হাফ পাস চালুর দাবি জানান।
এ ছাড়া বাস ও কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার নোটিশ টাঙানো, যাত্রীদের রসিদ প্রদান এবং ভাড়া নির্ধারণে খরচ ও টোলের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা এবং রেলপথে ট্রেন ও বগির সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও জানান তাঁরা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ৪ অক্টোবর শহরে বিক্ষোভ মিছিল, ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধ পালন করবে ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, বেসরকারি পরিবহন মালিকদের সুবিধা দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিআরটিসি বাস সার্ভিস সীমিত রাখা এবং ট্রেনের বগির সংখ্যা কমিয়ে রাখা হয়েছে।
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছাত্রনেতারা বলেন, বাস মালিকেরা বৈঠকে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও বাস্তবে তাঁরা নিজেরাই ‘মাফিয়াতন্ত্র ও সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলে যাত্রীদের পকেট কাটছেন।
দলীয় মতপার্থক্য ভুলে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, ছাত্রদলের স্থানীয় একটি অংশ শিক্ষার্থীদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিলেও প্রগতিশীল ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মৌমিতা নূর, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সম্পাদক কামরুল হাসান মিরাজ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সিয়াম, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের জেলা আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সংগঠক মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।








