মির্জা ফখরুলের অভিযোগ নির্বাচন ব্যাহত হয়
এমন অবস্থা সৃষ্টি করছে অন্তর্বর্তী সরকার
Tnntv24.অনলাইন ডেক্স:
‘দুর্ভাগ্য আমাদের! যে অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছি, তারা নিজেরাই এমন একটা অবস্থা তৈরি করছে, যাতে নির্বাচন ব্যাহত হয়।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, একটা রাজনৈতিক দল, তারা কয়েকটা দল
সঙ্গে নিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে বলছে, ‘নির্বাচনের আগেই গণভোট হতে হবে’। নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে কেন? আমরা বলেছি, গণভোট মানছি।
কিন্তু সেই গণভোট সংসদ নির্বাচনের দিনই হতে হবে। কারণ দুটি ভোট করতে গেলে অনেক টাকা খরচ হবে। ওই রাজনৈতিক দলগুলো, যারা গণভোটের চাপ দিচ্ছে, খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, গণভোট হলে নির্বাচনের দিনই হতে হবে।
নির্বাচন (সংসদ নির্বাচন) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই হতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষ তা কিছুতেই মেনে নেবে না।
ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে, সেখানে আমরা স্বাক্ষর করেছি। এরপর আবার যখন ঐকমত্য কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ সাহেব এবং প্রধান উপদেষ্টা নতুন করে যে প্রস্তাবটা দিলেন, সেখানে দেখা গেল, আমরা যাতে স্বাক্ষর করেছিলাম, সেগুলো সেখানে লিপিবদ্ধ হয়নি।
সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আপত্তি থাকবে অর্থাৎ নোট অব ডিসেন্ট থাকবে। সেটাও সেখানে (জুলাই সনদে) উল্লেখ করা হয়নি। সম্পূর্ণ নতুন করে প্রস্তাবনা নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা সেটা গ্রহণ করিনি। প্রেস কনফারেন্স করে সেটা পরবর্তী সময়ে আমরা জানিয়ে দিয়েছি।
পরে দেখলাম হঠাৎ করেই, উপদেষ্টা কাউন্সিলের একজন সদস্য প্রেস কনফারেন্স করে বললেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাত দিন সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তাহলে সাত মাস ধরে আপনারা সনদে স্বাক্ষর করার জন্য ঐকমত্য কমিশনে বসলেন, সংস্কারের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলাপ করলেন। আমাদের প্রতিনিধি থাকল, সব দলের প্রতিনিধি থাকল, তাহলে সেটার কী মানে হলো? তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বরের চেতনা, গণতন্ত্রের চেতনা। আমাদের জন্ম হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। আমাদের নেতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংস্কারের সূচনা করেছেন। আর জনাব তারেক রহমান নতুন সংস্কার ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়ে গোটা জাতিকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।’
এদিন সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর আজ বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে একটা প্রচেষ্টা চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্য।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণভোট প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব পরিষ্কারভাবে আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি। ওটাই আমাদের বক্তব্য।’
ওই বক্তব্যে বলা হয়, বিএনপি দৃঢ়ভাবে মনে করে, দীর্ঘ আলোচনায় উপনীত ঐকমত্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনোমতেই নিত্যনতুন প্রশ্ন উত্থাপন কিম্বা সংকট সৃষ্টি করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করবে না। বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার আইনানুগ বাস্তবায়ন এবং যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছে।
দুই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিবসহ দলটির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








