নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন থেকে বিএনপির প্রার্থী
সরে দাড়াঁনোয় কার কপালে তিলক লাগছে
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন থেকে বিএনপির প্রার্থী সরে দাড়াঁনোয় কার কপালে তিলক লাগছে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকে পথ চেয়ে আছে মাসুদুজ্জামানের প্রস্তানের স্থলাবিসিক্ত কে হবেন সেদিকে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে বিএনপির রাজনীতিতে যে সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, মাসুদুজ্জামানের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় তা পুরোপুরি বদলে গেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসনটিতে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন যাবে কার হাতে, তা নিয়েই চলছে এখন জল্পনা কল্পনা।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই নির্বাচনী মাঠ গোছাতে শুরু করেন। সদর ও বন্দর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়ানো, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মাঠ গোছানোর মধ্য দিয়ে তিনি দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
তবে শুরু থেকেই তার মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে বিরোধিতা ছিল। বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠান থেকে প্রকাশ্যেই তার বিরোধিতা করেন। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়, এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও দৌড়ঝাঁপ করেন মনোনয়নবঞ্চিতরা। বিপরীতে মাসুদুজ্জামান দলের মহানগরের শীর্ষ নেতাদের ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের নিজের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করেন।
এর মধ্যেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে মাসুদুজ্জামানের পক্ষে অবস্থান নেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। টিপুসহ একাধিক নেতা-কর্মী তার পক্ষে মাঠে নামেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এতে দলের ভেতরে একটি ধারণা তৈরি হয় মাসুদুজ্জামানই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী।
কিন্তু নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হঠাৎ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় সেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়।
মাসুদুজ্জামানের ঘোষণার পর নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন শুরু থেকেই তার মনোনয়নের বিরোধিতাকারীরা। প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়া সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং বিএনপি পন্থী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল এই তিনজনকে ঘিরেই এখন মূলত আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে।
সাবেক এমপি আবুল কালাম একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে তার রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি ও নিজস্ব অনুসারী বলয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং নিজস্ব ভোটব্যাংক তাকে এই দৌড়ে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন দলটির অনেক নেতা।
অন্যদিকে শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা বাড়িয়েছেন। বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নিজের বলয়ে আনার প্রচেষ্টাও তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন।
একই সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অতীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নগর রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা এই নেতা সংগঠনিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দলীয় হাইকমান্ডের বিবেচনায় থাকতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া মাসুদুজ্জামানের পক্ষে মাঠে কাজ করলেও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুও শুরু থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মাসুদুজ্জামান সরে দাঁড়ানোর পর তার অনুসারীরাও নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
সব মিলিয়ে মাসুদুজ্জামানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির রাজনীতি দাঁড়িয়ে গেছে এক নতুন সমীকরণের মুখে। দলীয় হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক বাস্তবতা, ত্যাগ, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করে নাকি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থী মাসুদুজ্জামানকে নির্বাচন করার নির্দেশনা দিবেন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা।








