তিন দিনের মাথায় নেতাকর্মীদের ঘেরাওয়ে নির্বাচনে
ফেরার ঘোষণা দিলেন মাসুদুজ্জামান
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
সব জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে আবার নির্বাচনে ফিরলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান। নির্বাচনে ফেরার দাবীতে শুক্রবার বিকেলে মাসুদুজ্জামান এর ফ্যাক্টরি ঘেরাও করে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক। সমর্থকদের দাবীর মুখে নির্বাচনে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তাজনিত কারন ও পরিবারের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
শুক্রবার বিকেল চারটায় নগরীর খানপুরে জড়ো হয় মাসুদুজ্জামানের সমর্থক নেতা কর্মীরা। এখানে মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেখানে আপনি নির্বাচন করবেন না এটা হতে পারেনা। আপনার কোনো ভয় নেই আমরা লাখ লাখ নেতা কর্মী রয়েছি। এই নেতার পরিবার মানে তার কর্মী সমর্থকরাও। ফলে আপনার পরিবার না চাইলেও আমরা চাই আপনি নির্বাচন করবেন।
এখানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক ওসমান হাদির জন্য দোয়া করা হয়। এরপর কয়েক হাজার নেতা কর্মী প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে নগরীর পশ্চিম তল্লা এলাকায় তার ফ্যাক্টরি ঘেরাও করে। এখানে তারা টায়ারে ও একটি অটোরিক্সায় অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায়ে মাসুদুজ্জামান ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়ে এসে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, যে ভালোবাসা আপনাদের মাধ্যমে আমি পেয়েছি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। জাতীয়তাবাদি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দিবেন, জাতীয়তাবাদি দল যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি সে সিদ্ধান্ত মেনে নিবো। আমি বিএনপি’র মনোয়ন পেয়েছি, নির্বাচনও করবো ইনশাল্লাহ। গত ১৬ ডিসেম্বর আমি নির্বাচন না করার ঘোষনা দিয়েছিলাম। এ ঘোষনার মাধ্যমে আমার জাতীয়তাবাদি দলের নেতা-কর্মী, আমার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সারাদেশের বিএনপি নেতা কর্মীরা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় আমি সবার কাছে নিশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।
তার এ ঘোষনায় তার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। মাসুদুজ্জামান এক সময় যুবদলের একটি ওয়ার্ড কমিটির নেতা থাকলেও পাঁচ আগষ্টের পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এবং বিএনপি’র মনোনয়ন পান। তবে বিএনপিতে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও পরোক্ষভাবে বিএনপি নেতা কর্মীদের সহায়তা করেন। তিনি ছাড়াও সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট শাখাওয়াৎ হোসেন, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও শিল্পপতি আবু জাফর আহমদ বাবুল এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি মনোয়ন পাওয়ার পরে এরা তার বিরোধীতা করতে থাকেন। তবে সম্প্রতি মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাকে সমর্থন জানিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। অন্যদের বিরোধীতাও আগের মতো জোরালো নয়। #








