নারায়ণগঞ্জ শনিবার | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বসন্তকাল | ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
  সর্বশেষ
এ সময়ের জনপ্রিয় ১৫ নায়িকার নাম প্রকাশ করলেন অভিনেতা-উপস্থাপক জয়: Tnntv24
শক্তিশালী কালবৈশাখীর আবাস দিলো কানাডার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোস্তফা কামাল পাশা : Tnntv24
বিচারহীনতার এক নাম ত্বকী হত্যা: করব জিয়ার শেষে দ্রুত বিচার দাবি : Tnntv24
রূপগঞ্জ জনগণের প্রত্যাশা উপজেলা  চেয়ারম্যান হিসাবে অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনকে দেখতে চান: Tnntv24
রূপগঞ্জে মাদদ্রব্যসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার: Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পূর্ণ , অভিযোগ পত্র না দেয়ায় ক্ষোভ, অদৃশ্য সুতার টানে থমকে আছে : Tnntv24
সোনারগাঁসোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জে সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন নামঞ্জুর : Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ ছয় সিটির প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রীম কোটের হাইকোর্টে রিট : Tnntv24
বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেম এর ছেলে হাসিন আরমান অয়ন জুলাই আন্দোলনের অংশিদার : Tnntv24
Next
Prev

কি লেখা আছে হাসনাত আব্দুল্লার ভাগ্যে ,আওয়ামী লীগ তাঁকে কী করতে পারবে? Nafiz Ashraf.Tnntv24

কি লেখা আছে হাসনাত আব্দুল্লার ভাগ্যে ,আওয়ামী লীগ তাঁকে কী করতে পারবে? Nafiz Ashraf.Tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
কি লেখা আছে হাসনাত আব্দুল্লার ভাগ্যে ,আওয়ামী লীগ তাঁকে কী করতে পারবে? Nafiz Ashraf.Tnntv24

কি লেখা আছে হাসনাত আব্দুল্লার ভাগ্যে ,

আওয়ামী লীগ তাঁকে কী করতে পারবে?

Tnntv24.অনলাইন ডেক্স:

২০২৪ সালের জুলাই মাসের শুরুতেও যাকে সারা দেশের মানুষ চিনতো না, তিনি হচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। আওয়ামী লীগ তাড়ানোর আন্দোলনে বিশাল বড় নেতা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ পতনের পর তিনিই হয়ে ওঠেন রাজনীতির মাঠে অনেক ঘটনার নিয়ামক। তার ডাকে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে, গুড়িয়ে দেয় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বাসভবন।

সেই হাসনাত আবদুল্লাহ পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হয়েছেন। জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে। সেখানে এখন বইছে নতুন রাজনৈতিক হাওয়া। সেই হাওয়ায় ভোটের মাঠে কোন্ দিকে ঝুলছে তার ভাগ্য?

কুমিল্লা-৪ আসনে এবার প্রথাগত ভোটের লড়াইয়ের চেয়ে কৌশলগত লড়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতীতের নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির একটি শক্ত ঘাঁটি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছিলেন প্রায় ১৫.৬ শতাংশ ভোট। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। সেবার জামায়াতের ভোট যোগ হয়ে ৫৯ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন তিনি। অন্যদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। সেবারও বিএনপিতে যোগ হয়েছিল জামায়াতের ভোট।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই আসনে বিএনপির একটি বিশাল ও স্থিতিশীল ভোট ব্যাংক রয়েছে যা ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর একক ভোটব্যাংকও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯১ সালে তারা ১৫ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও ১৯৯৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫.৭ শতাংশে। মনে করা হয়, সেবার তাদেরে ভোটে ভাগ বসিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠের বাইরে থাকায় জামায়াতের  ভোট বেড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এ কারণেই জামায়াত ও এনসিপির ঐক্য হাসনাত আবদুল্লাহর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত তৈরি করেছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে হাসনাত আবদুল্লাহর নিজস্ব ভোটব্যাংক নিয়ে। মনে করা হয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে তার একটি বড় প্রভাব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন বা যারা গত দেড় দশকে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বীতশ্রদ্ধ ছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ হাসনাত আবদুল্লাহর ‘নতুন ধারার রাজনীতির’ সমর্থক। বিশ্লেষকদের মতে, হাসনাত আবদুল্লাহর এই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার সাথে যদি জামায়াতের সুশৃঙ্খল ক্যাডার ভিত্তিক ভোট যোগ হয়, তবে তা বিএনপির জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হবে।

পরিসংখ্যানের হিসেবে, যদি বিএনপি তাদের আগের ধারাবাহিকতায় নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারে, তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। কারণ বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনায় এখানকার জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট পাবেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোটের সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহর নিজস্ব তরুণ ভোটব্যাংক যোগ হলেও জয়ের সম্ভাবনা কম। তবে যদি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটারদের একটি অংশ টানতে পারেন, তবে ফলাফল হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সব মিলিয়ে, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের লড়াই এখন আর শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন বিএনপির ঐতিহাসিকভাবে ধরে রাখা আধিপত্য বনাম নতুন প্রজন্মের জোটবদ্ধ শক্তির লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। আর এই লড়াইয়ে মূল ফ্যাক্টর হতে পারে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের দিকে টানার কৌশল। এই কৌশলে যে সফল হবে, জয়ের পাল্লাও ঝুঁকে পড়বে তার দিকে।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!