আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা:
২২৪ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির আদেশ ও ৩৯৩ কোটি টাকা মূল্যে
পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে- বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন
Tnntv24.শফিকুল আলম ভূইয়া স্টাফ রিপোর্টার রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জঃ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ২২৪ দশমিক ২৬ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির আদেশ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩৯৩ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ৩দশমিক ৪২শতাংশ বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানির খাতগুলো হলো বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স, হোম এ্যাপলায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা, ফেরিক্স। আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান মালয়েশিয়া ও তুরস্ক থেকে এ রাপ্তানির আদেশ পাওয়া গেছে।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন ও স্টলসহ ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে পুরষ্কৃত করা হয়। গতকাল ৩১জানুয়ারি শনিবার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুারো’র ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ইপিবি সচিব তরফদার সোহেল রহমান প্রমুখ।
এবারের বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি দেশি-বিদেশি স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়ন অংশ নেয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করে।
মেলায় ইপিবির কার্যক্রম ও রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে নির্মাণ করা হয়েছে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’। ছিলো ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করেন।
মেলায় বিভিন্ন ধরণের কাপড়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, টয়লেট্রিজ, গৃহসজ্জা ও গৃহস্থালি সামগ্রী, ক্রোকারিজ, সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী, ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, হারবাল, ফার্নিচার, ইমিটেশনের গহনা, কসমেটিকস এ্যান্ড বিউটি এইডস, আইসক্রিমের স্টল, প্লাস্টিক সামগ্রী, সিরামিক, প্রেসার কুকার, রুটি মেকার, ফ্রাইপ্যান, বস্ত্র, ভেজিটেবল কাটার, স্পোর্টস গুডস, মেলামাইন, খেলনা, চামড়াজাত পণ্য, স্যানিটারীওয়্যার, খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ নানাবিধ পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া কয়েদিদের তৈরি কারাপণ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় এমআরটিএফের প্যাভিলিয়ন, সেনাকল্যাণ সংস্থার স্টল, তুরস্কের কার্পেটঘরের প্রতি ছিলো দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ।

সমাপনি অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন আরো বলেন, অর্থনীতির ব্যবহার, ভারসাম্য ও বিদেশী বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ করতে হবে। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। সকল ক্ষেত্রে স্বক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈচিত্রকরণ করতে হবে। শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়কদের নিয়ে এ মিলন মেলার আয়োজন করা হয়। স্বক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের উদ্ভাবন, ব্যয় কমাতে আরো চেষ্টা করতে হবে। আগামীতে বাণিজ্য মেলা আরো দৃষ্টিনন্দন, সবুজায়ণ, সংস্কারকরণ, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, পয়নিঃস্কাশনসহ সার্বিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। পণ্য বহুমুখী উৎপাদন ও বাজার সৃষ্টি করতে হবে। শিল্প বিপ্লব ঘটাতে হবে। রপ্তানি আয় আরো বাড়াতে হবে। হস্তশিল্পকে একটি গ্রাম একটি পণ্যে পরিণত করতে হবে। লক্ষ কারিগরকে তুলে আনতে হবে। উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।
রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, কুড়িল থেকে বিআরটিসি বাসে ১৪/১৫ মিনিটে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বাণিজ্যমেলায় আসতে পেরেছে। স্টল বরাদ্দ থেকে শুরু করে বাণিজ্য মেলার সকল কার্যক্রম স্বচ্ছতার মধ্যে সম্পূর্ন হয়েছে। ই-টিকিটিং ছিলো এবার ব্যতিক্রম। ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, পণ্যের প্রসার ঘটাতে এ মেলার আয়োজন। পণ্য রপ্তানি ও বহুমুখীকরণ করতে হবে। তবেই মেলার আয়োজন সার্থক হবে।
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ আবদুর রহিম খান বলেন, মেলার পারিপাশ্বিক, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রসাশনিক ব্যবস্থা ছিলো সন্তেুাষজনক। মেলার আয়োজন এবার সার্থক।
বাণিজ্য মেলার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ছিলো বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিস। মেলায় ই-টিকেটিং এর ব্যবস্থা করা হয়। মেলায় প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ ছিলো প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় ছিলো পর্যাপ্ত সংখ্যক এটিএম বুথ। মা ও শিশুদের জন্য মেলায় ছিলো মা ও শিশু কেন্দ্র। এছাড়া রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার/বেঞ্চ, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্ণার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুর বাগান/খামার বাড়ী), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী হতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে থাকায় বাণিজ্যমেলা এখন ঢাকা থেকে দূরে নয়। প্রাকৃতিক ও মনোরম পরিবেশ থাকায় এবারের বাণিজ্যমেলা বিপুল সংখ্যক ক্রেতা ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। মেলার আয়োজন সার্থক হয়েছে। সফল হয়েছে ব্যবসায়ীরাও। পরে বিজয়ীদের মধ্যে সম্মাননা পদক বিরতণ করা হয়।
উল্লেখ্য গত ৩জানুয়ারি পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা -২০২৬ এর উদ্বোধন করেন অন্তর্বতীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ণ ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে।








