প্রবল বর্ষণে রূপগঞ্জে সবজির ব্যাপক ক্ষতি
জনজীবন বিপর্যস্ত, কৃষকরা দিশেহারা
Tnntv24.শফিকুল আলম ভূইয়া রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জঃ
প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত ও রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল, দাউদপুর, রূপগঞ্জ, মুড়াপাড়া, ভোলাবো, কাঞ্চনসহ আশপাশের এলাকার সবজি চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সবজি ক্ষেত বাঁচাতে পানি সরাতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে কাজ করেন চাষিরা। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পারার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অতি বর্ষণে রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে ও মাছের ঘের ভেসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বের হতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহর, দাউদপুর, রূপগঞ্জ, ভোলাবো ইউনিয়নসহ আশপাশের ৫৫ হেক্টর জমিতে লাউ, ৩০হেক্টর জমিতে বরবটি, ২০হেক্টর জমিতে শসা, ৪০হেক্টর জমিতে ঢেঁড়ষ, ৬০হেক্টর জমিতে চিচিঙ্গা, ৫০হেক্টর জমিতে জিঙা, ৬৫হেক্টর জমিতে চালকুমড়া, ২০হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া, ২০হেক্টর জমিতে কড়লা, ৫০হেক্টর জমিতে পুঁইশাক, ১৪৫হেক্টর জমিতে ধুন্দল, ২০হেক্টর জমিতে ডাটা, ৫হেক্টর জমিতে কলমি শাক, ১০হেক্টর জমিতে বেগুন চাষাবাদ করা হয়েছে। অতি বর্ষণে খরিপ-২ মৌসুমের বিপুল পরিমাণ জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহর, দাউদপুর ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক গ্রামের কৃষকরা সবজি চাষাবাদ করেছেন। এখানকার জমির তিন ভাগের দুই ভাগই সবজি চাষ হয়। মাঠ জুড়ে সবজি ক্ষেত। অতি বর্ষণে সবজি গাছের চারা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। কোন কোন গাছের পাতা মরে গেছে। গাছের চেহারা মলিন। ফুল নেই। ফলনও নেই। তবুও চাষিরা মাঠে কাজ করছেন। তারা বলছেন, এবারের অতি বর্ষণে সবজি চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বর্তমানে খরিপ-২ মৌসুমের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কৃষকরা। এখানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে লাউ, বরবটি, শসা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, করলা, পুঁইশাক, ধুন্দল, ডাটাসহ তারা বিভিন্ন সবজি চাষ করেছিলেন। আষাঢ়ের শুরুতেই এবার ভারি বর্ষণে কৃষকরা অনেকটা কষ্ট করেই সবজি চাষে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে অধিকাংশ সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহর ‘সবজি জোন’ খ্যাত এ অঞ্চলের সবজির মাঠ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রথম দিন থেকেই রূপগঞ্জে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কিছু দিন বিরতি দিয়ে আষাঢ় মাসজুড়েই বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে শেষের কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ছিল প্রবল।
আলমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী বলেন, প্রচুর বৃষ্টির কারণে বরবটি গাছের ফুল সব ঝরে যাচ্ছে, যার কারণে কোন ফলন নেই। গাছে ফুলও বের হচ্ছে না। তাতে তিনি চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। পশি গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন মিল্কি বলেন, আরো বৃষ্টি হলে সবজি গাছের চারা বাঁচানো সম্ভব হবে না। তিনি ধারদেনা করে জমি লিজ নিয়ে এবার চিচিঙ্গা ও জিঙার চাষ করেছিলেন। এবারের অতি বর্ষণে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেবই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে তাদের বেগুন ক্ষেতের সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
কালনী গ্রামের কৃষক মিঠু মিয়া বলেন, এই বৃষ্টির পর রোদে সবজি গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি গরম হয়ে সব সবজি গাছের পচন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো গাছগুলো মরে যাবে। দক্ষিণবাগ গ্রামের মাছ চাষি ইমান আলী বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে এলাকার সকল ঘের ভেসে একাকার হয়ে যাবে। এতে মাছ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আফরোজা সুলতানা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলে সবসময়ই কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের প্রণোদনা দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করে। প্রত্যেক বছরের ন্যায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি মন্ত্রণালয় এবারো কৃষকদের পাশে থাকবেন বলে আমি আশা করছি।








