নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আবাসিক এলাকায় জ্বালানি গ্যাসের তীব্র শঙ্কট
উপদেষ্টার কাছে আবেদন করেও ফল পাচ্ছে না
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় জ্বালানি গ্যাস সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। কোন কোন এলাকায় রাতে ও বন্ধের দিনে গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় একেবারেই জ্বালানি গ্যাস পাওয়া যায় না। । এছাড়া অভিযোগ পাওয়া গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মদনগঞ্জ,লহ্মারচর,ইসলামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাকান্দা,দড়িসোনাকান্দা,মাহমুদনগর,বেপারীপাড়াসহ আশপাশের আবাসিক এলাকায় গ্রাহকরা গত প্রায় ৫ বছর যাবৎ জ্বালানি তিতাস গ্যাস পাচ্ছে না। অথচ ওই অঞ্চলের গ্রাহকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ,বৈষম্যের শিকার গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যাস সরবরাহের দাবীতে মানববন্ধনসহ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আবেদনে বলা হয় এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা ৫০ হাজার এবং দুই লাখ লোকের বসবাস। প্রায় ৪ বছর আগেও লাইনে ৫০ পিএসআই গ্যাস এর চাপ দেওয়া ছিল। যা বর্তমানে গ্যাসের চাপ আছে ৫-৭ পিএসআই। এর মধ্যে ওই লাইন থেকে লক্ষণখোলায় শিল্প প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের ময়দা ফ্যাক্টরী,কাঁচের ফ্যাক্টরীসহ মোট ৫ টি শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইনের সংযোগ দেয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি ও নৌ-বাহিনীর ডকইয়ার্ডসহ সোনাকান্দা এলাকায় আরও ৫ টি বিস্কুট ফ্যাক্টরী ও বাণিজ্যিক লাইনের সংযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে আবাসিক এলাকায় গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছে না। এ অবস্থায় তিতাসের একটি টিম মার্চের প্রথম দিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে দড়িসোনাকান্দা এলাকায় পাইপের চেম্বার খুলে মেরামতের জন্য পাইপ কাঁটলে সেখানে সেচের মত পানি বের হয়। সমস্যা সমাধানের নামে কর্তৃপক্ষ সড়কের মাঝে চেম্বারের ঢাকনা খুলে রেখে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে এলাকারবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকনা বন্ধ করা হয়।
সোনাকান্দা এলাকার এক ভূক্তভোগী গ্রাহক মিরাজ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় কতৃপক্ষের কাছে ধর্না দেয়ার পর রোজার মাসে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যেত। এখন আবার দুর্ভোগ নিয়ে বৈষম্যের শিকার এলাকার গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। কয়েক বছর আগে দিনে না থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যেত। কিন্তু এখন পূণরায় সে অবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কেরোসিন তেল বা লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে।
একজন সাবেক কাউন্সিলর জানান, গত ১২ ডিসেম্বর বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফরাজীকান্দা থেকে মদনপুর পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় জ্বালানি গ্যাসে দাবিতে এলাকাবাসী বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টার বরাবর আবেদন করেও কোন ফল হয়নি।
প্রায় ৫ বছর যাবত গ্যাস পায় না জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি শাহেন শাহ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন,মানুষ কষ্ট করছে, জ্বালানি কিনে ব্যবহার করছে আর সরকার গ্যাস বিল ঠিকই নিচ্ছে। বিগত সরকারের কাছেও বার বার আবেদন করে কোন ফল হয়নি।
গ্যাস সরবরাহে বন্দরের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ সোনারগাঁয়ের উপমহাব্যবস্থাপকের কাছে গিয়েও তাকে পাচ্ছে না। কোন এক সময় পেলেও তিনি দেখবেন বলেই দায়িত্ব শেষ করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।
অপরদিকে জ্বালানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন বন্দর অঞ্চলের ম্যানেজার প্রকৌশলি জাহিন আমির খান জানালেন,জ্বালানি গ্যাস সংকট বিষয়ে তাদের কাছে একাধিক অভিযোগ লিখিত দিয়েছে গ্রাহকরা। গ্যাস সরবরাহের পুরনো পাইপের কারণে সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে চিতাশাল এলাকায় জ্বালানি গ্যাস সরবরাহ সাভাবিক হয়েছে। আর ১৯ নম্বর,২০ নম্বর ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডে কাজ চলমান রয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে ওই সকল এলাকায়ো জ্বলানি গ্যাস সরবরাহ সাভাবিক হবে আশা করা যায়।








