সনাতনি হিন্দু সম্পদায়ের পবিত্র মহাতীর্থ অষ্টমী
স্নান উৎসব শেষ হবে আজ বিকেলে
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রম্মপুত্র নদে স্নানোৎসব শুরু হয়েছে বুধবার বিকেলে। চলবে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত মহা তীর্থ অষ্টমী স্নানোৎসব । আগত পূর্ণার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। আয়োজকদের মতে উৎসবে নদের ১৮টি ঘাটে প্রায় ১০ লাখ পুণ্যার্থীর সমগম ঘটবে। উৎসব উপলক্ষ্যে ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুইদিন ব্যাপী চলছে মেলা।
পুরান মতে, হিন্দু দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে গোসল করে পাপমুক্ত হন। লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে এ পানিকে ব্রহ্মপুত্র নদরূপে নামিয়ে আনেন সমভূমিতে। পৌরাণিক এ কাহিনীকে স্মরণ করে প্রতি বছর নির্ধারিত দিনে লাখ লাখ তীর্থযাত্রী পুণ্য লাভের আশায় জড়ো হন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রম্মপুত্র নদে। পাশ্ববর্তী ভারত ও নেপালসহ দেশ-বিদেশের অনেকে অংশ নেয় পবিত্র মহাতীর্থ অষ্টমী স্নান উৎসবে। সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের পাপমোচন পুণ্য স্নানার্থে এক অন্যন্য তীর্থ ভূমি বন্দরের লাঙ্গলবন্দে শুরু হয়ে চলছে ধর্মীয় পবিত্র মহাতীর্থ অষ্টমী স্নান উৎসব। শুল্কা তিথি অনুযায়ী বুধবার বিকেল ৫ টা ১৭ মিনিটে লগ্ন শুরু হয়। শেষ হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টা ৫৩ মিনিটে। দুই দিন ব্যাপি এ স্নান উৎসব কে ঘিরে ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জমে উঠেছে মেলা।

নদের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রেমতলা, অন্নপূর্না, রাজঘাটসহ ১৮ টি ঘাটে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্রপল্লব সহ ১৮টি ঘাটে স্নান আয়োজন ছিল। স্নানোৎসবে আসা পূন্যার্থীরা জানান পাপ মোচনের আশায় তারা এই ব্রাক্ষ্মপুৎত্র নদে স্নান করতে আসেন।
‘হে সমহাভাগ ব্রম্মপুত্র হে লৌহিত্য তুমি আমার পাপ হরন কর’ এ মন্ত্র উচ্চারণে স্নান করে পাপ মোচনের তীর্থযাত্রী পুন্যলাভের আশায় স্নান করে থাকেন বলে জানালের সেবায়েত। তিনি বলেন, এখানে স্নান করলে পাপ মোচন শেষে পর্ণতা লাভ হয়।
আয়োজকদের দাবী পাশ্ববর্তী ভারত ও নেপাল সহ দেশ-বিদেশের এবারের স্নানোৎসব প্রায় ১০ লাখ মানুষকে সমাগম ঘটেছে। স্নান উৎসব কমিটির সমন্বয়ক জানান কমিটির পক্ষ থেকে তিন কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে সব ধরনের সেবা সহায়তার আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান।
পূর্ণার্থীদের সেবাদানে প্রতি বছরের মত এ বছরও বিভিন্ন সংগঠন, সেচ্ছাসেবী ও স্থানীয়রা সেবা কেন্দ্র করেছেন।
দুই দিন ব্যাপি এ স্নান উৎসব কে ঘিরে ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জমে উঠেছে মেলা। বিভিন্ন রকমের পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব, আনসার,ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিনস্থরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তীর্থস্থানের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক ও নদীতে নৌ পুলিশ দশনার্থীদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।








