স্ত্রী পরকিয়া প্রেমিক ভেবে নারায়ণগঞ্জের
দশম শ্রেনীর ছাত্রকে তুলে নিয়ে হত্যা ,
গ্রেফতার ৩
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
কথায় আছে নামে নামে জমে টানে । এমনই হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে এক স্কুল ছাত্র। শুধু মাত্র নামের সাথে মিল থাকায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক ভেবে নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জের বেইজ
স্কুলের দশম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র ইয়াছিন আরাফাতকে (১৭) গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যাকারিরা লাশ গুম করার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডির ক্যানেলে কচুরিপানার
নীচে ফেলে দেয়। হত্যাকান্ডের প্রায় ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ । হত্যাকান্ডেরে সাথে সরাসরি জড়িত দুই আসামীসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে
পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা হলে আজিম হোসাইন (২৭) ফয়সাল (২৭) এবং আজিম হোসাইনের স্ত্রী নুসরাত জাহান মিম (২৪) ।
রোববার (১০ মে) দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো: মোস্তফা কামাল রাশেদ। তিনি বলেন, গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরীর
চাষাড়ার বাসা থেকে মায়ের জন্য ঔষধ কেনার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয় স্কুল ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত। এর দুদিন পর ১৩ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জপুলস্থ আশরাফ আলী এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের
সামনে ডিএনডি লেক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ইয়াছিনের মা আফরিনা নাসরিন। দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ তদন্ত
করলেও কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় মামলাটি পিবিআই- এর হাতে ন্যস্ত করা হয়। পিবিআই-এর তদন্তে বেরিয়ে আসে মূল আসামী আজিম হোসাইনের স্ত্রী নুসরাত জাহান মিমের ফুফাতো ভাই ছিলেন
নিহত ইয়াছিন আরাফাত। ২০১৭ সাল থেকে আজিম হোসাইনের সাথে ইয়াছিন আরাফাতের ফুপাতো বোন নুসরাত জাহান মিমের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উছে। ২-২০২০ সালে আজিম ও মিম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই আজিম ও মিমের একে অপরের বিরুদ্ধে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এমন সন্দেহ থেকে দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে। একবার মিমের মোবাইলে ইয়াছিন আরাফাত নামে
এক যুবকের ফেইবুক ম্যাজেঞ্জারে মেসেজ দেখে আজিম তাকে পরকীয়া প্রেমিক হিসেবে সন্দেহ করতে শুরু করেন। মিম ইয়াছিনকে নিজের ফুফাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিলেও
আজিম তা বিশ্বাস করেননি। এরই জেরে বন্ধু ফয়সালকে সাথে নিয়ে ইয়াছিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আজিম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়াছিন ওষধ কিনতে বের হলে আজিম ও ফয়সাল তাকে কৌশলে সিএনজিতে তুলে নেয়। এরপর আরও কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে
সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ইয়াছিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে লেকের পানিতে ফেলে
দেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মে ডেমরা থেকে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিরআখরা থেকে ফয়সালকে এবং রূপগঞ্জ থেকে মিমকে
গ্রেফতার করা হয়। মিমের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আজিম নিজের অপরাধ স্বীকার
করেছেন। অন্যদিকে, ফয়সাল ও মিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল
রাশেদ জানান, ঘটনায় জড়িত বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহত ইয়াছিন আরাফাতের মা ছেলের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড রায়ের দাবি জানান।








