দেশি মাছের ‘আঁতুড়ঘর’ রূপগঞ্জের বিলে এখন কচুরিপানা,
বালু ভরাট করে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইয়া নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত। সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানী বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে| রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাব, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশেপাশের এলাকাগুলোতে।
সরজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিলে কচুরিপানায় ঢাকা। এক সময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়| একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।
আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন| তিনি বলেন, আশপাশের মানুষ বিলে পানি ব্যবহার করতেন। ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।
স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, খাল বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার| পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।
বিলের উপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ ˆতরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়| একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।
মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার| তাঁদের একজন মানিক সরকার (৫০)। এক সময় মাছ ছিল তাঁদের আয়-রোজগারের বড় উৎস| তিনি বলেন, নদীর পশ্চিম পাশে বালি ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, খাল বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবিরা বেকার হবে| জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে এক সময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।








