রূপগঞ্জে নগরপাড়া বাজার থেকে খালপাড় পর্যন্ত রাস্তা
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাস্তার বিভিন্ন জায়গা ধসে পড়েছে
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে নগরপাড়া বাজার থেকে খালপাড় পর্যন্ত সড়কটি নিন্ম মানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণের কারনে মাত্র এক মাস যেতে না যেতেই সড়কের বিভিন্ন জায়গা ধসে পড়েছে|
প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা দ্রুত ভেঙ্গে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দরা| তাদের দাবি উন্নয়নের নামে প্রহসন আর হরিলুটের কারনেই রাস্তাটি এ অবস্থা হয়েছে| শুধু
তাই নয়, বাজারের অংশে পানি নিষ্কাশনের কোনো পাইপলাইন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় প্রধান সড়ক থেকে ভেতরে ঢোকার প্রধান পথটি এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতার ডোবায় পরিণত
হয়েছে| এই অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজের মাশুল গুণছে নগরপাড়া, কাজীবাড়ি, পূর্বপাড়াসহ ৫টি গ্রামের অন্তত ৭ হাজার অসহায় মানুষ| দিনের পর দিন পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে হেঁটে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে|
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার, মিনরার মাহমুদ, রাসেল আহমেদসহ কয়েকজনর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া-ডেমড়া সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক| এ
সড়কের নগরপাড়া ব্রিজ থেকে নগরপাড়া বাজার পর্যন্ত অংশটুকু ভাঙ্গাচুরা এবং বেহাল অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে| বৃষ্টি হলে এই অংশে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে
পড়ে| বড় বড় ভাঙ্গার কারনে দুর্ঘটনার শিকার হয় অনেকে| জনগণের দুর্ভোগের চিন্তা করে প্রায় ৩ শ মিটার বেহাল সড়কটি ইউনি ব্লক রাস্তা নির্মাণের জন্য এলজিইডি ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৭১১ টাকা বরাদ্দ দেন| কাজটি পায় বাইতুল আল মামুর এজেন্সির মালিক সালাউদ্দিন নামের এক ঠিকাদার| সালাউদ্দিন আবার সাব- ঠিকাদার নুর উদ্দিনকে কাজটি করার দায়িত্ব দেন| সম্প্রীতি এই সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়| সড়ক নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা হলেও দুর্ভোগ রয়েই গেছে|

স্থানীয়দের অভিযোগ, যোগাযোগের দুর্ভোগ লাগবের জন্য ম এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও শুরু থেকেই এতে অনিয়মের অভিযোগ উঠে| নিন্ম মানের ইটের খোয়া ও কার্পেটিং করে
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সিন্ডিকেট আত্মসাৎ করেছে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ| সড়কের পানি নিষ্কাশনের ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি এবং বাজারের ময়লা- আবর্জনা জমে একাকার হয়ে গেছে| সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি প্রায় হাটু পানির নিচে তলিয়ে যায়| ফলে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও চাকরিজীবীদের ˆদনন্দিন যাতায়াত প্রায় বন্ধ| নোংরা ও পচা পানিতে নিয়মিত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের পায়ে ও ত্বকে দেখা দিয়েছে তীব্র চুলকানি এবং চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে| এলাকার কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার মতো অ্যাম্ভূলেন্স বা কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশের উপায় নেই|
বিল্লাল হোসেন বলেন, পাইপ না দেওয়ায় এখন ভেতরের পুরা রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে| মানুষের সমস্যা হচ্ছে| ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রাহিদ ও রাশিদ বলে, আমাদের প্রতিদিন এই পানি দিয়ে যেতে হয়| পায়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে| আবুল হাশেম বলেন, আমার দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে| ব্যবসা লাটে উঠেছে|
এলাকাবাসির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি| উপজেরা প্রকৌশল অফিসের দুনীর্তিবাজ কর্মকর্তাদেরযোগসাজসে এই রাস্তাটি নির্মাণ
করায় মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে| তাদের দাবি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদরকে অবিলম্বে সড়কটি পুনর্নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী পাইপলাইন স্থাপনের জন্য|
এ বিষয়ে রুপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, নগরপাড়া থেকে ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার কাজ জুন মাসে শেষ হয়েছে | বর্ষা মৌমুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারনে রাস্তার বেশকয়েক
জায়গায় নতুন মাটি সড়ে গেছে| ঠিকাদারকে এখন পর্যন্ত ফাইনাল বিল প্রদান করা হয়নি| এরই মধ্যে ঠিকাদারকে বিষয়টি বলা হয়েছে| ধসে পড়া জায়গা মেরামত করার জন্য | টানা বৃষ্টিবাদল
কমলেই ঠিকাদার তা মেরামত করবে| আর বাজারের পানি জমে থাকার বিষয়ে বলেন, প্রতিবছরই বাজারে পানি জমে জলাবদ্ধতা হয়| তারপর এবার রাস্তা নির্মাণকরার সময় বাজারে বালু ফেলে কিছুটা উচুৃ করা হয়েছে|
নগরপাড়া রাস্তা ধসে পড়া ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি আমার জানা নেই| খোঁজ নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে| রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, আমি জেনেছি| বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হবে|








