সরকারী সেচ খাল ভরাট করে ইউপি চেয়ারম্যানের
ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ খালের একাংশ ভরাট করে সরকারি বরাদ্দের টাকায় ব্যক্তিগত যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তবে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রায় ২৮ লাখ টাকার অর্থায়নে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা । এতোদিনে রাস্তা নির্মাণ শুরু করায় রাস্তার মাটি ও বালু মিশে খাল ভরাট হয়ে থাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা ।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, বর্তমান সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খননের কার্যক্রম চালালেও এই ইউপি চেয়ারম্যানের খাল দখল করে রাস্তা নির্মাণ করায় হতভাগ হয়েছেন সাধারণ জনগন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের অনেক জায়গায় উন্নয়ন না করে সরকারি টাকায় চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন নিয়ে দুইবার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ব্যারিষ্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য। বর্তমানেও তিনি ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এলাকা বাসীর দাবী, উপজেলায় অন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়াকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি । কারণ তারই চাচাতো ভাই নারায়নগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু ।
অভিযোগ রয়েছে, ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন অনেক বাকি রয়েছে। এসব উন্নয়নের ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন নিবেদন করে আসলেও তেমন কোন ফলাফল হচ্ছে না। কিন্তু সেগুলোর দিকে নজর না দিয়ে চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভুইয়া তার নিজ বাড়ির ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেনকে ম্যানেজ করে বরাদ্দ এনেছেন । অথচ তার বাড়িতে চলাচলের জন্য ২ টি রাস্তা রয়েছে। ব্যক্তিগত নতুন রাস্তা নির্মাণের ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তার জন্য ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা পরিষদ । ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে রাস্তা নির্মাণের বরাদ্দ বাগিয়ে নেন তিনি। আর ওই রাস্তার কাজ পান আল গনি বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সরকারি খালের একাংশ দখল করে গজারি গাছ ও বাঁশ গেড়ে ঘেড় তৈরি করা হয়েছে । এরপর সেখানে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে করে ওই খালের পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে । বারবার তৈরি করা ঘেড় ভেঙে বালু ও মাটি খালে পড়ছে।
স্থানীয়দের অনেকেই নাম না প্রকাশ করতে বলেন, চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের আমলেও দলের প্রভাব খাটিয়ে নিজের ইচ্ছে মত কাজ করেছেন। বর্তমান বিএনপির আমলেও তিনি বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজের ইচ্ছামত কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ খাল উদ্ধার করা আর এই চেয়ারম্যান সরকারি টাকায় নিজের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণে মাটি ও বালু ভরাট করে খাল দখল করায় দুঃসাহসের কাজ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মাত্র ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তায় সরকারি প্রায় ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় উপজেলা পরিষদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট । আমার কোন ব্যক্তিগত রাস্তা প্রয়োজন নেই। স্থানীয় জনগণ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া খাল ভরাটের বিষয়টিও সঠিক নয়। এসব ষড়যন্ত্র।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রাস্তাটি করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ম্যানেজ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যদি সরকারি খালের মধ্যে রাস্তা পড়ে থাকে সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে সরকারি টাকায় ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা জানি এটি ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য চলাচলের রাস্তা। এছাড়া কারো ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের সুযোগ নেই। যেহেতু জেনেছি যদি এমনটি হয় তাহলে কাজটি বন্ধ করে দেয়া হবে । বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সহকারি কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।








