রূপগঞ্জে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি
বেড়েছে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইঁয়া নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত এক মাসে উপজেলার কায়েতপাড়া, ভুলতা, মুড়াপাড়া, ভোলাবো ও তারাবো এলাকায় অন্তত ২৫টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে গভীর রাতে।সংঘবদ্ধ চক্র দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ টাকা, স্বর্নালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া ও মাঝিনা এলাকায় দুই রাতে পরপর তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় দোকান ও গোডাউনে চুরির ঘটনাও বেড়েছে। দিনের বেলায়ও সিএনজি স্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় ছিনতাই বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দিলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। রাতে পুলিশি টহল কম থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।
‘প্রতি রাতেই ঘটছে চুরি ডাকাতির ঘটনা। মহাসড়কে ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। দেখার যেন কেউ নেই। কারো গোয়ালের গরু নেই, ঘরের আসবারপত্র নেই। স্বর্নালংকার টাকা পয়সা যা পাচ্ছে তাই হাতিয়ে নিচ্ছে। রূপগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরি-ডাকাতি রোধে পুলিশি তৎপরতা না থাকায় বেড়েছে এসব ঘটনা। প্রতি রাতেই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে চলেছে, বেড়েছে চুরি ও ছিনতাই।
রূপগঞ্জে গত ৯ মাসে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। থানা পুলিশ ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫টি বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এর বেশিরভাগই সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলো ঘটেছে কায়েতপাড়া ইউনিয়নে। সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকার কাজীবাড়ির জমি ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের বাড়িতে ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল হানা দেয়| তারা অস্ত্রের মুখে গোটা পরিবারকে জিম্মি করে ১৭ ভরি স্বর্নালংকার ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। পরেরদিন ভোরে ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৫ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে এবং লুণ্ঠিত ৭ ভরি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
এর ঠিক ২০ দিন আগে, গত ৪ সেপ্টম্বর ভোরে একই ইউনিয়নের মাইলাবো এলাকার ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদ মিয়ার বাড়িতে একই কায়দায় ৮/১০ জনের দল ঢুকে ৪ ভরি স্বর্নালংকার ও ৪ লাখ টাকা সহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে।
গত ২ জুলাই গোলাকান্দাইল এশিয়ান হাইওয়েতে ঘটে এক ব্যতিক্রমী ডাকাতির ঘটনা| ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৩২০ বস্তা চিনি বোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতি করে চক্রটি। পরে ১২ জুলাই পুলিশ অভিযান চালিয়ে কোনাপাড়া ও গোলাকান্দাইল থেকে ৪৪ বস্তা চিনি ও ট্রাক সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গত বছরের নভেম্বর দুটি ঘটনা আলোচনায় আসে। ২৪ নভেম্বর২০২৪ দুপুরে কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় এক স্কুল শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে ১০ ভরি স্বর্নালংকার ১০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ আসে। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এটি ওই শিক্ষার্থীরই সাজানো নাটক ছিল মোবাইল ও গেমস কেনার জন্য। এ ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এর ৪ দিন আগে ২০ নভেম্বর পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে ফিল্মি স্টাইলে ব্লগার জিসানের মোটরসাইকেল ছিনতাই করে একটি চক্র। র্যাব-১১ পরে বাড্ডা থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এর বাইরে ভুলতা, মুড়াপাড়া, তারাবোতে ছোটখাটো দোকান চুরি ও অটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ভুলতা-গাউছিয়া বাজারে রাতে দোকানের শাটার ভেঙে ছোট চুরি| তারাবো ও কাঞ্চন এলাকায় অটো/মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতে পুলিশি টহল কম থাকা ও মাদকের বিস্তারের কারণে অপরাধ বাড়ছে। রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “চুরি-ডাকাতির কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অপরাধ দমনে আমাদের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে| জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি। অপরাধ দমনে টহল জোরদার ও নিয়মিত অভিযান চলছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু টহল নয়, রাত্রিকালীন পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো, সিসিটিভি স্থাপন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে| অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম আব্দুল বিন সফিক বলেন, আমি নতুন জয়েন করেছি। খোজ খবর নিয়ে সব অপরাধীদের নির্মূল করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরু টলারেন্স নীতি অবলম্বন করব। অপরাধী যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।








