এক সময়ের দুর্দন্ড দাপটশালী  পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)

বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ

Tnntv24.অনলাইন ডেক্স:

এক সময়ের দুর্দন্ড দাপটশালী  পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ আটক করেছে বলে জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করেছেন। রোববার সংসদ অধিবেশন শুরুতেই ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য আটকের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে বলেও সংসদে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, গত শুক্রবার একটি চিঠি দিয়ে দুবাই পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।

গত বছরের ৪ মে তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছিলেন। গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পৌঁছে তিনি আটক হন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায়ও সম্পদ খোঁজার প্রক্রিয়া চলছিল ।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১১ কোটি চার লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের কাছে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতেও তার প্রকৃত সম্পদের তথ্য লুকানোর প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও জারি করা হয়।

এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদের তার স্ত্রী ও মেয়েদের বিরুদ্ধেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আলাদা চারটি মামলা করে দুদক।

মামলায় বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।