নারায়ণগঞ্জ শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ গ্রীষ্মকাল | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  সর্বশেষ
পুলিশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আইভীর বাড়ি ঘেরাও। Tnntv24
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু।Tnntv24
সংবাদ প্রকাশের পর: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা সড়কের পাশের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণ:Tnntv24
সোনারগাঁয়ে এভারগ্রীন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ।Tnntv24
তের মাস পর কারা মুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ নগরীতে সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চীনা কোম্পানির আগ্রহ:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গুণধর পুত্র মোবাইলের দাবিতে বাবাকে হত্যার চেষ্টা করে: Tnntv24
টিউবওয়েল বসানোর সময় লোহার পাইপ বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত ১, আহত ৩।Tnntv24
রূপগঞ্জে কলেজ ছাত্রী অপহরণ:Tnntv24
Next
Prev

হামলা ও আগুন দিয়েছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে । Nafiz Ashraf.Tnntv24

হামলা ও আগুন দিয়েছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে । Nafiz Ashraf.Tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
হামলা ও আগুন দিয়েছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে । Nafiz Ashraf.Tnntv24

হামলা ও আগুন দিয়েছে প্রথম আলো

এবং ডেইলি স্টার ভবনে

Tnntv24.অনলাইন ডেক্স:

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে একদল লোক এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় পত্রিকা দুটির প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। আজ বাজারে দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

শুরুতে প্রথম আলো অফিসে অগ্নিসংযোগের পরে ডেইলি স্টারে হামলা চালানো হয়। পরে রাতে ঘটনাস্থলে যায় সেনাবাহিনী। তারা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি (বডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যদের দেখা যায়। এরপর হামলাকারীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ও ছায়ানট ভবনে গিয়ে ভাঙচুর করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর একদল লোক শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোটা নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর শুরু করে। হামলায় কার্যালয়ের বেশির ভাগ জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল-চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় বিক্ষোভকারীদের ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির’ ‘আল্লাহু আকবর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

প্রথম আলোর একজন সংবাদকর্মী সমকালকে বলেন, শুরুতে অল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য ছিল। তবে তারা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে পারেনি। এরপর অনেক সময় ধরে ভাঙচুর করা হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রথম আলোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, প্রথমা প্রকাশনা, প্রথমা ডটকম, বিজ্ঞাপন, হিসাব শাখা, চরকিসহ বিভিন্ন বিভাগ পুরোপুরি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

পরে তারা ডেইলি স্টার ভবনের দিকে যায়। সেখানে হামলা ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। ভবনটির নিচের তিনটি তলায় যখন আগুন জ্বলছিল, তখন প্রাণ বাঁচাতে সংবাদকর্মীরা ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন। এই ভবনে আটকে পড়া একাধিক সংবাদকর্মী সমকালকে জানান, ভবনের চারতলায় পত্রিকাটির নিউজ রুমে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আটকে পড়েন এবং আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সদস্য এম এ শাজাহান রাত ২টায় সমকালকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ডেইলি স্টার ভবনে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ফোনকল পাচ্ছি। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি টিম কাজ করছে। আগুন দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস রওনা হলেও পথে বাধার সম্মুখীন হয়। ফলে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে দেরি হয়। ডেইলি স্টার ভবনে আটকে পড়া  সংবাদকর্মীদের মধ্যে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ১০ জনকে ক্রেন ব্যবহার করে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক ভবনটির ছাদে আটকা রয়েছেন।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) ক্যশৈন্যু মারমা রাত ২টায় সমকালের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমি এখন ডেইলি স্টার ভবনের সামনে রয়েছি। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমাদের আরেকটি টিম প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলাকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা চালিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের নিবৃত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকশ লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলায় কারা অংশ নিয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

ডেইলি স্টার ভবনে আটকে পড়া ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম রাত ১টার দিকে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে খুব বেশি ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ।’

রাত আড়াইটায় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনের আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ধানমন্ডিতে ছায়ানট আক্রান্ত 
বৃহস্পতিবার রাত ১-৪০ মিনিটের দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা ছায়ানট ভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা ভবনের দরজা, জানালা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বাইরে আগুন দিয়েছে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ আসে। প্রত্যক্ষদর্শী একজন কর্মী জানান, এতে অফিসের দলিল ও শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র অনেক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!