কোরবানি ঈদে রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইওয়ে
সড়কে দীর্ঘ যানজট।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকায় এবারের ঈদে যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহন চরম ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে ভুলতা এবং গাজীপুরের ভোগড়া থেকে মদনপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক দুটিতে উন্নয়ন কাজ চলায় বেশ কিছু স্থানে যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।এর ফলে প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটসহ আটটি জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদে কোরবানির পশুবাহী বিভিন্ন ট্রাকসহ পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন বড়ো ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং পশুবাহী যানবাহন যেন কোনো ভোগান্তিতে না পড়ে, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সড়কে থাকবে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। এমনকি বাড়তি সহযোগিতার জন্য এবার সড়কে বিপুল পরিমাণ স্বেচ্ছাসেবীও নিয়োজিত থাকবেন।
সরেজমিন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই দুটি মহাসড়কে গরুবোঝাই ট্রাকসহ বাড়তি যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে। রাজধানী থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলগামী আট জেলার মানুষের বাড়ি ফেরার একমাত্র পথ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এই সড়কের রূপগঞ্জ অংশের ১২ কিলোমিটারের পাঁচটি পয়েন্টে এবং এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের রূপগঞ্জ অংশের ১৪ কিলোমিটার সড়কে চার লেনের কাজ চলছে। সড়ক দুটির বেশ কয়েকটি স্থানে রাস্তা এখনও যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উত্তরবঙ্গে আসা-যাওয়া করা পণ্যবাহী যানবাহনসহ সিলেটগামী যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল করছে।
রাস্তা এবড়োখেবড়ো হওয়া এবং সংস্কার কাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে পড়ায় প্রায় সময়ই বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে দুই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মাত্র ২০ মিনিটের রাস্তা পার হতে চালক ও যাত্রীদের সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে সড়কের এই সংস্কার সংকটের মাঝেই অপরিকল্পিতভাবে কাঞ্চন সেতুর টোল আদায়ের কারণে যানজটের তীব্রতা আরও বাড়ছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন, সড়কের যেসব স্থানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে, দ্রুত সেসব স্থানে যদি প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না পড়ে, তবে ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষ এবং উত্তরবঙ্গ থেকে আসা পশুবাহী ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হবে।”








