কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়,অনেকের
জীবিকা ওবটে
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইঁয়া নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঋতুর পরিক্রমায় বাংলা ষড়ঋতুর কাব্যিক রূপ নিয়ে এখন শেষের দিকে শরৎকাল। দিগন্তজোড়া নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর স্নিগ্ধ বাতাসের দোলায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে তার অপরূপ রূপের উপস্থিতি। দূর-দূরান্তের মানুষকে প্রকৃতির এই নিজস্ব আয়োজনে মুগ্ধ করছে চারপাশের শুভ্র কাশফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন মাটির বুকে নামানো শুভ্র মেঘের চাদর।এই চোখ জড়ানো সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই কাশবনে প্রকৃতির রূপপিপাসু শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন। তবে রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি বালুর মাঠ,নগরপাড়া,ও বানিয়াদী এলাকায়। এই শুভ্র কাশফুল কেবল সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়ে ই ক্ষান্ত হয়না,এটি একই সঙ্গে অনেক নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার প্রধান খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে।কাশবনের খড়, ছন আর ঝাটি বিক্রি করে এই এলাকার অনেক পরিবার এখন আর্থিকভাবে সচ্ছলতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার মুখ দেখছে।
কোনোরকম যত্ন ও পরিচর্যা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেড়ে ওঠা এই বশাল কাশবনে এখন নিজেদের জীবন ও জীবিকার সন্ধান করছেন হতদরিদ্র পরিবার গুলো। কাশবন থেকে সংগৃহীত খড়,ছন ও ঝাটি পানের বরজ ও বেড়ার কাজে লাগে। গ্রামীণ পরিবারের গৃহস্থালি রান্নাবান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আশিন মাস শেষের দিকে, শরৎ ও বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবু মাঠে মাঠে শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল, ইট-পাথরের রাজধানী ঢাকায় কাশফুলের স্নিগ্ধ ছোঁয়া পেতে অনেকেই ছুটে যান রূপগঞ্জের জলশিরির বালুর মাঠ, নগর পাড়া বিলের ধারে,বানিয়াদী এলাইট জুট মিলস,আমেরিকান সিটিও নদীর চরাঞ্চলে। বিকেলের রোদ পড়তেই কাশবনের সাদা ছাতার নিচে জমাট বাঁধে দর্শনার্থীদের ভিড়। তরুণ-তরুণীদের আড্ডা আর শাড়ির আঁচলে কাশফুলের আলতো ছোঁয়া, সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। নীল আকাশের নিচে সাদা কাশফুল যখন বাতাসের দোলায় দুলতে থাকে, তখন মনে হয় শ্বেতবসনা একঝাঁক নৃত্যশিল্পী নৃত্য করছে।
পালকের মতো নরম ও ধবধবে সাদা রঙের কাশফুল। এখনও বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে কাশফুলের পালক। এই কাশফুলের উপলদ্ধির মধ্যেই বাঁজতে শুরু হয় ঢাকের বাদ্য, জানান দেয় আসছে দুর্গা পূজা। কারণ, উচ্ছ্বল এই ঋতুর সঙ্গেই আসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’।

নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশফুলের ঝাড় বেড়ে ওঠে, তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়। নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশফুল সহজে সম্প্রসারিত হতে পারে।
জলসিঁড়ির বালুর মাঠে কাশ ফুলের মেলায় মিলিত হয় প্রেমিক-প্রেমিকার আনন্দ মেলা। নিজেরদের ব্যস্ত সময় থেকে একটু সময় বের করে অনেকেই কিছুক্ষণের জন্য ঘুরতে বের হন। এতে নিজেদের মধ্যে একটু প্রশান্তি কাজ করে এমনটাই জানিয়েছেন জায়হানা, রিপা, নিতু, ইশা,হাসনা, লিজা,রাবেয়ারা। শুধু এরা নয় এমন অনেক পরিবার আছে যারা তাদের অবসর সময়টাকে উপভোগ করার জন্য একটু ঘুরে বেড়িয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছেন আখি আক্তার নামে এক আমেরিকান প্রবাসী। দেশে এসেই সন্তান নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পরেন। তিনি জানান, আমরা বর্তমানে যান্ত্রিক হয়ে গেছি, আনন্দ-বিনোদন ভুলে যাচ্ছি। তাই সন্তানের মনকে প্রফুল্ল করার জন্য একটু বেরিয়েছি।
আরেক দর্শনার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘শরৎ এলে কাশবনে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা হয় প্রতিবছরই। বলা যায়, বিয়ের পর গত ১০ বছর ধরেই এই ঋতুতে আমি কোনো না কোনো কাশবনে ঘুরতে যাই। কিন্তু, ছোটবেলায় দেখতাম ভাদ্রের শুরুতেই চরজুড়ে ধবধবে সাদা কাশের দোলা। এখন আশ্বিন ঘনিয়ে এলেও কাশবনে সেই পূর্ণতা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবুও শান্তি যে, দেখা মিলছে, যেভাবে আবাসন গড়ে উঠছে, হয়তো একটা সময় আর দেখাই পাব না কাশবনের।
কাশফুলের বিশাল সমারোহে প্রানবন্ত ঘুরতে ও উচ্ছাস করতে দেখা গেছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা ইসলাম-ক তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, শরৎকাল ও কাশফুল সম্পর্কে আমরা বইতে পড়েছি। তাই বাস্তবে দেখার জন্য আজ বাবা-মার সাথে ঘুরতে বেড়িয়েছি। বাবা’র যখন সময় হয়, তখনই আমরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে চলে আসি। আজ কাশফুলের মাঠে ঘুরতে খুব ভাল লাগছে,
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা খানম বলেন, কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন- পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পাথর দূর হয়। কাশফুলের মূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়।








