নারায়ণগঞ্জ শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ গ্রীষ্মকাল | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  সর্বশেষ
পুলিশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আইভীর বাড়ি ঘেরাও। Tnntv24
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু।Tnntv24
সংবাদ প্রকাশের পর: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা সড়কের পাশের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণ:Tnntv24
সোনারগাঁয়ে এভারগ্রীন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ।Tnntv24
তের মাস পর কারা মুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ নগরীতে সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চীনা কোম্পানির আগ্রহ:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গুণধর পুত্র মোবাইলের দাবিতে বাবাকে হত্যার চেষ্টা করে: Tnntv24
টিউবওয়েল বসানোর সময় লোহার পাইপ বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত ১, আহত ৩।Tnntv24
রূপগঞ্জে কলেজ ছাত্রী অপহরণ:Tnntv24
Next
Prev

নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুথ্থানের ঢেউ লেগেছিল ১৪ জুন।Nafiz Ashraf.Tnntv24

নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুথ্থানের ঢেউ লেগেছিল ১৪ জুন।Nafiz Ashraf.Tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুথ্থানের ঢেউ লেগেছিল ১৪ জুন।Nafiz Ashraf.Tnntv24

নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুথ্থানের

ঢেউ লেগেছিল ১৪ জুন 

Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুথ্থানের ঢেউ লেগেছিল ১৪ জুলাই। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত বছরের ১ জুলাই থেকে। পরে তা গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। একসময় দেশ ছেড়ে পালান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জে এই আন্দোলনের ঢেউ এসে লাগে ১৪ জুলাই। গতবছর এদিন সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের ছাত্ররাও সোচ্চার হয়ে উঠে বৈষম্যপূর্ণ কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে। এদিন প্রথম ‘বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল’ কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের সূচনা করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হাতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হতে থাকলে দ্রোহের নগরী হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ।  ক্রমেই এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও।

১৪ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে জেলার প্রথম সমাবেশের আয়োজন করে। সে সময় তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় ছাত্রদলের দুজন নেতা ও চারজন সাধারণ শিক্ষার্থী।

সকাল ১১ টায় শহীদ মিনারের বেদিতে বসে তারা সবাই প্ল্যাকার্ডে শ্লোগান লেখেন। বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ’ ব্যানারে ‘সকল গ্রেডে অযোক্তিক এবং বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটাকে নূন্যতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে’ এই দাবি জানিয়ে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে ২৫-৩০ জনের একটি মিছিল শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের শহীদ মিনারে এলে নারায়ণগঞ্জ কলেজের একদল শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানায়।

এ কর্মূচীতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন থেকে জেলা সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা মানিক মুনা, সাধারণ সম্পাদক সৃজয় সাহা, সহ সভাপতি ও সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউশা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী মৌমিতা নূর, অর্থ সম্পাদক শাহিন মৃধা, কার্যকরী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস নিসা উপস্থিত ছিল।

উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট থেকে জেলা আহ্বায়ক ও সরকারী তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাছিমা আক্তার, সদস্য ও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী ও কলেজ কমিটির সদস্য শিপা।

বাংলাদেশের ছাত্র ইউনিয়ন থেকে শহর সংসদের সভাপতি ও ইউল্যাবের শিক্ষার্থী ইফাজ ইমতিয়াজ অয়ন্ত, নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের শিক্ষার্থী (বর্তমানে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি) আলিমুল ইসলাম সিফাত, একই কলেজের শিক্ষার্থী রায়হান শরীফ, কাশিপুর দারুসসুন্নাহ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।

আন্দোলনের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সে সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৩ জুলাই দুপুরে আমরা ৪ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে একত্রিত হয়ে ১৪ জুলাই সকালে সম্মিলিত কর্মসূচীর সিদ্ধান্ত নেই। সে অনুযায়ী পরদিন আমরা মিনারে মিলিত হই এবং বিক্ষোভ সমাবেশ ও শহরে মিছিল করি।’

সেদিন আন্দোলনে অংশ নেওয়া কাশিপুর দারুসসুন্নাহ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ ঢাকা তখন আন্দোলনে উত্তাল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন শুরু হচ্ছিল না। ১২ জুন ছাত্রফেডারেশনের সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌস নিসার একটি ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে ১৩ জুলাই একটি হোয়াটসঅ্যাপগ্রুপে যুক্ত হই। ১৪ জুলাই শহরে মিছিল করার পর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রথম দিনের আন্দোলন শেষ হয়। পরদিন একই স্থানে সমাবেশের ঘোষণা দেন ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা। নারায়ণগঞ্জে সূচনা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার হলেও শুরুতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বেই আন্দোলনে অংশ নিই।’

এরপর থেকে নারায়ণগঞ্জে টানা কর্মসূচী পালন ও স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন পরিচালিত হতে থাকে। যেখানে অংশগ্রহণ করে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। এ গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে অন্তত ৫৪ জন শহীদ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ২১ জন। বাকি ৩৩ জনের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আত্মাহুতি দেন এসব বীর শহীদেরা।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!