নারায়ণগঞ্জ শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ গ্রীষ্মকাল | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  সর্বশেষ
রূপগঞ্জে বিদ্যুতের অবৈধ লাইন: ঝুঁকিপূর্ণ কয়েক হাজার মানুষের জীবন।Tnntv24
পুলিশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আইভীর বাড়ি ঘেরাও। Tnntv24
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু।Tnntv24
সংবাদ প্রকাশের পর: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা সড়কের পাশের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণ:Tnntv24
সোনারগাঁয়ে এভারগ্রীন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ।Tnntv24
তের মাস পর কারা মুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ নগরীতে সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চীনা কোম্পানির আগ্রহ:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গুণধর পুত্র মোবাইলের দাবিতে বাবাকে হত্যার চেষ্টা করে: Tnntv24
টিউবওয়েল বসানোর সময় লোহার পাইপ বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত ১, আহত ৩।Tnntv24
Next
Prev

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কেএম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) আর নেই । Nafiz Ashraf.tnntv24

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কেএম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) আর নেই । Nafiz Ashraf.tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কেএম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) আর নেই । Nafiz Ashraf.tnntv24

মুক্তিযুদ্ধের ৩নম্বর সেক্টর কমান্ডার সাবেক সেনাপ্রধান

মেজর জেনারেল (অবঃ) কেএম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) আর নেই

Tnntv24.শফিকুল আলম ভূইয়া স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশের  প্রথম ও সাবেক সেনাপ্রধান, সাবেক সংসদ সদস্য, ৩নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধ কালীন এস ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জেনারেল(অব:) কেএম সফিউল্লাহ বীরউত্তম ইন্তেকাল করেছেন। গতকাল  ২৬ জানুয়ারি রবিবার সকাল পৌনে ৯ টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন,তা জানিয়েছেন তার ব্যাক্তিগত সহকারী জিয়াউর রহমান মনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাদ জোহর রূপগঞ্জের কাজী আব্দুল হামিদ উচ্চবিদ্যালয়ে মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বাদ আছর আরেক দফা জানাজা হবে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে।
জানা গছে, ১৯৩৪সালের ২সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া হাইস্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজে পড়া অবস্থাতেই যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে।  ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েশন করে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে ডিফেন্স স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি করেন। তিনি স্কুল অব ইনফেন্টিতে প্রশিক্ষক ছিলেন। ১৯৭০ সালে পদোন্নতি পেয়ে আবার ব্যাটেলিয়নে ফিরে আসেন কেএম সফিউল্লাহ।
১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তিনি বীরউত্তম খেতাব পেয়েছেন। তাঁর খেতাবের সনদ নম্বর দুই। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন ৩নম্বর সেক্টর কমান্ডার। পরে তাঁর নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে তৈরি করা এস ফোর্সের প্রধান হন।
মুক্তিযুদ্ধের আগে কেএম সফিউল্লাহ ছিলেন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কেএম সফিউল্লাহর নেতৃত্বে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১০ এপ্রিল থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন কেএম সফিউল্লাহর। তাঁর অধীনে থাকা ৩ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন এলাকা ছিল হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ। মুক্তিযুদ্ধের অক্টোবর মাসে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় এস ফোর্স। এই ফোর্সের অধীনে ছিল দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ১১নম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। কেএম সফিউল্লাহর নির্দেশে ও নেতৃত্বে অসংখ্য দুর্ধর্ষ ও সফল অপারেশন পরিচালিত হয়। তিনি এসব অপারেশনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেন।
কেএম সফিউল্লাহর পরিকল্পনায় সিলেটের একাংশ, আশুগঞ্জ, ভৈরব ও মাধবপুর হানাদারমুক্ত হয়। তাঁর নেতৃত্বে হানাদারমুক্ত হয় আশুগঞ্জ, ভৈরব, লালপুর, আজবপুর, সরাইল, শাহবাজপুর, মাধবপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর।
৬ডিসেম্বর হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া থেকে কেএম সফিউল্লাহ আশুগঞ্জ যাচ্ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর এক জেসিও প্রায় লাফিয়ে কেএম সফিউল্লাহকে জাপটে ধরে তীব্র ধস্তাধস্তি করেন। একপর্যায়ে কেএম সফিউল্লাহকে লক্ষ্য করে তিনি স্টেনগানের ট্রিগার চাপেন। এসময় কেএম সফিউল্লাহর কোমরে বাঁধা পিস্তলে গুলি লাগে। কেএম সফিউল্লাহর জেসিওর মাথায় কয়েক দফা আঘাত করতেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান জেসিও। কেএম সফিউল্লাহ রাইফেল নিয়ে তাদের গুলি করতে গিয়ে দেখেন রাইফেল ভাঙা। কোমরে থাকা পিস্তলও বিধ্বস্ত। এ সময় কেএম সফিউল্লাহ কচুরিপানা আর কাদাপানিতে ডুবে প্রাণে বেঁচে যান।
মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন কেএম সফিউল্লাহ। ১৯৭৩ সালের তিনি ব্রিগেডিয়ার এবং একই বছরের ১০ অক্টোবর মেজর জেনারেল পদ লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি কানাডা,সুইডেন, ইংল্যান্ড ও মালয়েশিয়া  ১৯৫৩ সালে  বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯১ সালে দেশে ফিরে আসলে তাঁকে ১ বছরের জন্য ওএসডি করে রাখা হয়। ১৯৯২ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে জান। ১৯৯৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩সালে রূপগঞ্জ গ্রামে তাঁর পিতার নামানুসারে কাজী আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!