নারায়ণগঞ্জ শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ গ্রীষ্মকাল | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  সর্বশেষ
পুলিশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আইভীর বাড়ি ঘেরাও। Tnntv24
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু।Tnntv24
সংবাদ প্রকাশের পর: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা সড়কের পাশের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণ:Tnntv24
সোনারগাঁয়ে এভারগ্রীন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ।Tnntv24
তের মাস পর কারা মুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ নগরীতে সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চীনা কোম্পানির আগ্রহ:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গুণধর পুত্র মোবাইলের দাবিতে বাবাকে হত্যার চেষ্টা করে: Tnntv24
টিউবওয়েল বসানোর সময় লোহার পাইপ বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত ১, আহত ৩।Tnntv24
রূপগঞ্জে কলেজ ছাত্রী অপহরণ:Tnntv24
Next
Prev

রূপগঞ্জের চনপাড়া-ডেমরা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ : Nafiz Ashraf. Tnntv24

রূপগঞ্জের চনপাড়া-ডেমরা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ : Nafiz Ashraf. Tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
রূপগঞ্জের চনপাড়া-ডেমরা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ : Nafiz Ashraf. Tnntv24

রূপগঞ্জের চনপাড়া-ডেমরা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ

Tnntv24.শফিকুল আলম ভূইয়া রূপগঞ্জ( নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা ও বালুনদীর মোহনায় চনপাড়া-ডেমরা সেতু ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে।
সেতুর উপর কর্তৃপক্ষ সাইনবোর্ড লাগিয়েই দায়িত্ব পালন করেছে। 
গত ৪ বছর ধরেই সেতুটির দূরাবস্থা । কেউ এটা মেরামতও করে দেয় না। আবার নতুন বানিয়েও দেয় না। হাতলগুলো নিজে নিজেই খসে পড়ছে। ছোট্ট একটা গাড়ী গেলেই সেতু  কাঁপতে থাকে। মনে হয় এই বুঝি ভেঙ্গে পড়লো। নদী পথে চলাচলকারী বালু ও পন্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে সেতুটি । এছাড়া পিলারের পলেস্টার খসে রড বেরিয়ে গেছে। তবু কেউ এর খবর নেয় না। মনে হয় এ সেতুটির কোনো অভিভাবক নেই। বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ক্ষতি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে। তখন আর কিছুই করার থাকবে না।”
 কথাগুলো বলছিলেন সেতুর  পাশেই বসবাসকারী ফাতেমা আক্তার। মীরপাড়া এলাকার ৬ বছরের ছোট্ট শিশু আরাফ হোসেন বলেন, “ওই পাড়ে আমার নানীর বাড়ি। আমি ভয়ে বেড়াতেও যাই না। যদি সেতুটা ভেঙ্গে যায়। গাড়ী নদীতে পড়ে যায়।” চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ডেমড়া-চনপাড়া সেতু। যে কোনো সময় সেতু ধ্বসে পড়ার আশংকায়  রয়েছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা। নির্ধারিত ৬০ বছর সময় মেয়াদের আগেই সেতুটির নড়বড়ে অবস্থা। এ সেতু দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা। সেতুটি এত ঝুঁকিপূর্ণ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়সাড়াভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড টানিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ।
 উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে প্রায় ১ কোটি দশ লাখ টাকা ব্যায়ে বালুনদের উপর ডেমড়া-চনপাড়া এলাকায় এ সেতুটি নির্মান করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য  ১১০ ফুট, প্রস্থ ১২ ফুট। রাজধানী ঢাকার সাথে ইট,বালু ও মালামাল নেওয়ার সুবিধার্থে বালু নদীর উপর ডেমড়া-কালিগঞ্জ সড়কের চনপাড়া এলাকায় নির্মিত হয় এ সেতু। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ৬০ বছর মেয়াদী চুক্তিতে নির্মান করা হলেও ৩৪ বছরেই সেতুটির ভঙ্গুর দশা। যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে একবার সেতুটির নিচে ফাটল দেখা দেয়। ওই সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করায় সে যাত্রায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় মানুষ। পুনরায় ২০১২ সালে সেতুর পিলার ও বিভিন্ন অংশের পলেস্তার খসে পড়ে। খবর পেয়ে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বড় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে  সেতুর সামনে সাইন বোর্ড টানিয়ে দেয়া হয় বেশ কিছু দিন ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পুনরায় ভারী যানবাহনসহ সব ধরনের যান চলাচল শুরু করে।
নদীতে চলমান ট্রলারের ধাক্কায় সেতুর চারটি পিলার, ভিম ও রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশের পলেস্তার ভেঙ্গে পড়েছে। স্থানীয় সিএনজি চালক লোকমান হোসেন বলেন, এই সেতু পার হওয়ার সময় এই ভেবে বুকটা কেঁপে ওঠে এই বুঝি সেতু ভাঙ্গিয়া পড়িল। ছোট্ট একটা গাড়ী গেলেই সেতু কেঁপে ওঠে। মনে হয় গাড়ী ঘোড়াসহ ব্রীজ ভাঙ্গিয়া এখনই নদীতে পড়ল। এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া এ সেতুই রাজধানী ঢাকার সঙ্গে রূপগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এদিকে বালু নদী দিয়ে রাত দিন সারাক্ষণ বালু বোঝাই বাল্কহেড ও মালবাহী ট্রলার চলাচল করে। এসব বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর পিলারগুলো ভেঙ্গে গেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মেহমুদ মুরশেদ উল আল আমিন বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বার বসানো হয়েছে। যাতে যান চলাচল করতে না পারে। কে বা কারা রাতের আঁধারে এগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পাস হয়নি। কবে হবে তাও জানা নেই। এছাড়াও বিআইডব্লিউর আপত্তির কারনেও এ সেতুর নির্মাণ কাজে বিঘ্ন হচ্ছে।
 ডেমড়া-চনপাড়া সেতুটি র্দীঘ দিন ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে, সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ হচ্ছে না কেন, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্ঠা করব। আশা করি খুব শীঘ্রই আলোর মুখ দেখবে সেতুটি।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!