নারায়ণগঞ্জ শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ গ্রীষ্মকাল | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  সর্বশেষ
পুলিশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আইভীর বাড়ি ঘেরাও। Tnntv24
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু।Tnntv24
সংবাদ প্রকাশের পর: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা সড়কের পাশের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণ:Tnntv24
সোনারগাঁয়ে এভারগ্রীন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ।Tnntv24
তের মাস পর কারা মুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী।Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ নগরীতে সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চীনা কোম্পানির আগ্রহ:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গুণধর পুত্র মোবাইলের দাবিতে বাবাকে হত্যার চেষ্টা করে: Tnntv24
টিউবওয়েল বসানোর সময় লোহার পাইপ বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত ১, আহত ৩।Tnntv24
রূপগঞ্জে কলেজ ছাত্রী অপহরণ:Tnntv24
Next
Prev

নারায়ণগঞ্জে অপহৃত যুবকের পাঁচ দিন পর রূপগঞ্জে লাশ সনাক্ত। Tnntv24

নারায়ণগঞ্জে অপহৃত যুবকের পাঁচ দিন পর রূপগঞ্জে লাশ সনাক্ত। Tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
নারায়ণগঞ্জে অপহৃত যুবকের পাঁচ দিন পর রূপগঞ্জে লাশ সনাক্ত। Tnntv24

Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ ওঠা যুবকের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, অপহরণের পরদিনই তার মরদেহ রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হয়।উদ্ধারের সময়কার মরদেহের ছবি দেখে রোববার সকালে পরিবারের লোকজন তা শনাক্ত করেন।

গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ। সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে।

অপহরণের পরদিন ৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালনী এলাকা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত বা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নীলাফুলা জখম ছিল।”

শরীরের এসব জখম হত্যার পূর্বের নির্যাতনের নির্দেশ করছে বলে জানান তিনি।

মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাত অবস্থাতেই রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। তবে, মরদেহের ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে বলে জানান ওসি সালাউদ্দিন।

এদিকে, গত ১ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় শুভর অপহরণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করে আরও ১০ জনকে অভিযুক্ত করেন শুভর মা মাকসুদা বেগম।

সাখাওয়াত ইসলাম রানা ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়া যুবদলের সেই সময়ের ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে।

মামলায় মাকসুদা অভিযোগ করেন, তার বড়ছেলে শুভকে মারধরের পর একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তোলা হয়। ওই ইজিবাইকের পেছনে পেছনে শুভর মোটরসাইকেলটিও চালিয়ে যান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা। এরপর শুভ কিংবা তার মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় সাখাওয়াত ইসলাম রানার সঙ্গে তর্ক হয় শুভর। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তার মা।

এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্যারেজের সামনে সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। তর্কের এক পর্যায়ে ছুরি হাতে রানা ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন শুভ।

তার মা এজাহারে আরও লেখেন, শুভ আগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র মেরামতের কাজ করলেও পরে এলাকার কিছু বখাটে যুবকের সঙ্গে মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ে। অপরাধ কর্মকাণ্ডেও সে জড়িয়ে পড়েছিল।

মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও শুভর সন্ধান দিতে পারেনি।

রোববার তদন্তের প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ উদ্ধার হওয়া রূপগঞ্জের অজ্ঞাত মরদেহ ছবি দেখালে পরিবারের লোকজন তা শুভর বলে শনাক্ত করে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

মামলাটি এখন অপহরণের পর হত্যা হিসেবে তদন্ত করা হবে বলেও জানান।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

যদিও শুভর বাবা মো. সোহেলের অভিযোগ, অপহরণের রাতেই থানা পুলিশের শরনাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। তবে, পুলিশের সহযোগিতা পাননি। মামলাও রেকর্ড করা হয়েছে তিনদিন পর।

সোহেল বলেন, “শুরু থেকেই সবার নাম বলছি, কারা তুইল্লা নিয়া গেছে তাদের নামও বলছি। কিন্তু পুলিশ পাত্তা দেয় নাই। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও ধরে নাই। শুরুতেই পুলিশ গুরুত্ব দিলে আমার ছেলেরে হয়তো জীবিত পাইতাম।”

তিনি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিও জানান।

তবে, তদন্তে কোনো প্রকার অবহেলা ছিল না বলে দাবি করেন ফতুল্লা থানা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, “আমি নিজে শুরু থেকে ঘটনাটির আপডেট ফলো রেখেছি। সারাদিন পুলিশ কাজ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল ভিক্টিমকে উদ্ধার করা আর কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করা।”

“সবাই পুলিশের নেগেটিভটা দেখে, কিন্তু আমরা শুরু থেকেই কাজ করেছি”, যোগ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!