নারায়ণগঞ্জ ক্লাব:
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো,
ক্লাব সদস্যদের সেবা করতে চাই-জুয়েল
Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রশিদ জুয়েল। নির্বাচনে একটি ভোট পেলেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ভাষায়, বেঁচে থাকতে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তাঁকে এবারের নির্বাচন থেকে সরাতে পারবেন না। তিনি মনে করেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলে তাঁর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
আসন্ন নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লি: নির্বাচন, নিজের প্রার্থিতা, ভোটারদের সমর্থন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন মাহবুবুর রশিদ জুয়েল।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব এই শহরের অভিজাত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই ক্লাবের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত ও ভোটাধিকার রয়েছে। তাই ক্লাবের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার ভোটারদের। তাঁরা যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তাহলে আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
নিজের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে জুয়েল বলেন, আমি অনেক আগে থেকেই এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভোটারদের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সাড়া পেয়ে আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আরও উৎসাহিত হয়েছি। ক্লাবের সর্বস্তরের সদস্যদের কাছ থেকে আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রধান অনুপ্রেরণা।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তবে পরবর্তী নির্বাচনে ক্লাবের কয়েকজন সিনিয়র ভোটারের পরামর্শ এবং বর্তমান সভাপতি এম সোলায়মান সাহেবের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি। সেটি ছিল তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও সম্মানের জায়গা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই এবার আর পিছিয়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
মাহবুবুর রশিদ জুয়েল বলেন, সভাপতি পদে অন্য কেউ নির্বাচন করতে চাইলে অবশ্যই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। আমি কারও প্রার্থিতার বিরোধিতা করছি না। বরং চাই, যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে আসুন এবং ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিন। কিন্তু সম্প্রতি জানতে পেরেছি, আমাকে বাদ দিয়ে কিংবা নির্বাচনের বাইরে রেখে বিনা ভোটে কাউকে সভাপতি করার একটি চেষ্টা চলছে। আমি মনে করি, এমন চিন্তাভাবনা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনী পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নির্বাচন হবে, ভোটাররা ভোট দেবেন এবং তাঁদের রায়েই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
তিনি বলেন, বিগত দুটি নির্বাচন অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং আমি চাই, এবারের নির্বাচন আরও সুন্দর, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হোক। এতে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও বাড়বে।
নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য আমার প্রস্তুতি অনেক আগেই সম্পন্ন করেছি। একটি ভোট পেলেও আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব না। যদি বেঁচে থাকি, তাহলে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আমাকে এবারের নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না। এটি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমি নির্বাচনে অংশ নেব এবং ভোটারদের কাছে যাব। তাঁদের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়েই বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা করছি।
নির্বাচনে জয়ী হলে ক্লাবের সদস্যদের প্রত্যাশা পূরণ এবং তাঁদের সেবা করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মাহবুবুর রশিদ জুয়েল বলেন, আমি ক্লাবের সদস্যদের সেবা করার একটি সুযোগ চাই। ক্লাবের উন্নয়ন, সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, ক্লাবের সদস্যরা যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মূল্যায়ন করবেন। তাঁরা আমাকে বঞ্চিত করবেন না বলে আমার প্রত্যাশা।
সবশেষে তিনি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আমি সবার সহযোগিতা, দোয়া ও ভালোবাসা চাই। একই সঙ্গে সম্মানিত ক্লাব সদস্যদের কাছে আমার ভোটের আবেদন রইল। আপনারা আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। আমি আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এবারের নির্বাচন নিয়ে আমার প্রত্যাশা একটাই—কোনো সমঝোতা বা চাপ নয়, ভোটারদের সরাসরি রায়েই নির্ধারিত হোক নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের আগামী দিনের নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, আগামী ১৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকেই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে।








