রপগঞ্জে কলেজগুলোতে ফলাফল বিপর্যয়,
৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেলের পাল্লা ভারি, মাদরাসায় হতাশা
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইয়া নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলীম পরীক্ষার ফলাফলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ৭ কলেজে চরম পর্যায়ে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। তবে মাদরাসাগুলোও বিতর্কের বাহিরে নয়। যদিও এইচএসসি ধারায় কলেজগুলোতে চরম বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। এ নিয়ে অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে মাদরাসাগুলোতেও ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।
সূত্রমতে, উপজেলায় সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষায় গড়ে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটি ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল অত্যন্ত হতাশাজনক, যা উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: সিদ্দিক নুর আলম স্বাক্ষরিত ফলাফলের তথ্য থেকে জানা যায়, এ বছর সাধারণ এইচএসসিতে মোট ২ হাজার ৪ শত ৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাশ করতে পেরেছে মাত্র ১ হাজার ১৮ জন মাত্র। যার কারনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে উপজেলার গড় পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪১.০৫%-এ। অর্থাৎ, প্রায় ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। শুধু তাই নয়, জিপিএ-৫ এর আকাল পড়েছে কলেজগুলোতে। ২ হাজার ৪ শত ৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১৪ জন। এদের মাঝে জলসিড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। তাই ফলাফলের দিক বিবেচনায় এবছর তলানিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।
উপজেলার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টিতেই পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সূত্রমতে, সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজ। যেখানে পাসের হার মাত্র ২০.৮৪% (৮১ জনের মধ্যে ১৯ জন পাশ)।
তথ্যমতে, নামীদামী প্রতিষ্ঠান খ্যাত কলেজ তথা উপজেলার সর্ববৃহৎ সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুড়াপাড়া সরকারি কলেজে মোট শিক্ষার্থী ১ হাজার ৭ শত ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ৮শত ৮০ জন। যার পাসের হার ৫২.৮০%) মাত্র।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের করুণ হাল দেখা গেছে। ইউছুফগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে পাসের হার ২৪.১৯%, পূর্বাচল আদর্শ কলেজে ২৭.৭৮%, নুরুন্নেছা স্কুল এন্ড কলেজে ২৮.১২%, সলিমউদ্দিন চৌধুরী কলেজে ৪৬.৭৫% এবং নবকিশোলয় হাইস্কুল এন্ড গার্লস কলেজে ৪৭.৮৩% মাত্র।
একই উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭০.০০%। এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় পাসের হার ৮৮.৮২%। যেখানে আলিম ও বিএমটি শাখায় ভালো ফল অর্জিত হয়েছে, সেখানে সাধারণ এইচএসসিতে পাসের হার ৪১.০৫%-এ নেমে আসা সাধারণ শিক্ষার দুর্বলতা ও পাঠদানের গাফিলতিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে।
বিপর্যয়ের মাঝেও সাফল্য ধরে রেখেছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ৯৮.১১% পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া জলসিড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ ৮৮.১২% এবং রূপসী নিউ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ৭৪.১৯% পাসের হার নিয়ে তুলনামূলক ভালো ফল প্রদর্শন করেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিভাবক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাদানে সচেতন নয়। তাদের মতে, নিয়মিত ক্লাসের অভাব, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি, ও তদারকির অভাবেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে। দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা আরও পিছিয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, রূপগঞ্জের কলেজ পর্যায়ে ফলাফল বিপর্যয়ের কারন খতিয়ে দেখবো। কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।








