নারায়ণগঞ্জ | | |
  সর্বশেষ
৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ,নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড ৪ ঘন্টা অবরোধ।Tnntv24
সিরাজগঞ্জের শাহদাতপুরের ফ্রেশফুড সার্ভিস কোম্পানির চটকদার বিজ্ঞাপন, নকল ঘিয়ের রমরমা ব্যবসা:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিসে ওমেদার সিন্ডিকেটের রাজত্ব ! Tnntv24
রপগঞ্জে কলেজগুলোতে ফলাফল বিপর্যয়, ৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেলের পাল্লা ভারি, মাদরাসায় হতাশা :Tnntv24
রূপগঞ্জে পাথরবোঝাই ট্রাক থেকে ৬৪২ বোতল ফেনসিডিলসহ দুইজন গ্রেফতার:Tnntv24
এইচ এসসিতে নারায়ণগঞ্জে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৫ জন,পাশের হার ৪৫.৭৮ শতাংশ।Tnntv24
রূপগঞ্জে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় হামলা,৪ দাঁত উপড়ে ফেলেছে :Tnntv24
২৩বছর ধরে নির্মাণাধীন বালু নদীর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ:Tnntv24
নারায়ণগঞ্জের বিএনপি’র এক প্রভাবশালী এমপি ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ কি তলে তলে এক ?Tnntv24
জি.এস.এইচ এক্সপ্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ:আদালতে মামলা।Tnntv24
Next
Prev

৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ,নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড ৪ ঘন্টা অবরোধ।Tnntv24

৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ,নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড ৪ ঘন্টা অবরোধ।Tnntv24

Facebook
WhatsApp
LinkedIn
৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ,নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড ৪ ঘন্টা অবরোধ।Tnntv24

৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ,

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড ৪ ঘন্টা অবরোধ

Tnntv24.নিজস্ব প্রতিবেদক:

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে যান চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। বিকেল চারটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। আধা ঘণ্টা পর তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে সড়কের ভূঁইগড় এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। তবে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট বৃষ্টির পর কিছুক্ষণের জন্য সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। পরে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকরা আবার জড়ো হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বাসাভাড়া দিতে হয় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এক মাসের বাজারে আরও ১০ হাজার টাকা লাগে। চিকিৎসার একটি পরীক্ষা করাতেই খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। বাকি খরচ কীভাবে মেটাবেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাঁদের একটাই দাবি মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

হাবিবুর রহমান নামে আরেক শ্রমিক বলেন, চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তিনি বলেন, “বাঁচার মতো বেতন দিতে হবে। আমরা কাজ করেই বাঁচতে চাই। কাজ ছাড়া তো টাকা চাই না। শহরে বাসার ভাড়া তো আপনারা জানেন। আমাদের বেতন যদি না বাড়ায়, তাহলে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম আর দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিক। নাহলে আমাদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার করতেই হবে। নাহলে আমরা আন্দোলন থামাবো না।”

ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হতাহতের ঘটনারও প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ঘটনাস্থল থেকে বলেন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েকটি কারখানার কয়েকশ শ্রমিক সড়কে নেমে অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। সড়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামানের গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়।

অবরোধের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কেউ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে, আবার কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সিলেট থেকে আসা হাজেরা বেগম সাইনবোর্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন। পরে আধা কিলোমিটার ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাওয়ার পর তাঁকে নেমে হাঁটতে হয়। তাঁর গন্তব্য চাষাঢ়া, যা সেখান থেকে অন্তত ছয় কিলোমিটার দূরে।

 

হাজেরা বলেন, “একা একজন মহিলা মানুষ আমি দুইটা ব্যাগ নিয়ে এত পথ কেমনে হাঁইটা যামু তাই ভাবতেছি।”

অন্যদিকে, ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় গরুবোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ে যানজটে আটকে পড়েন চালক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “কাঞ্চন ব্রিজ থেকে রওয়ানা হইছিলাম, গরু নিয়ে যাবো গোগনগর। কিন্তু এক জায়গায়ই গত দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি। সামনে কতটুকু যানজট তাও বুঝতেছি না।”

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়কের এক পাশে সরিয়ে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে শ্রমিকরা তখনো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ সময় জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, “কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। সরকার আপনাদের নিয়ে কাজ করছে। আপনাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসবে।”

শ্রমিকরা এ সময়ও তাঁদের দাবিমতো মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান। ঘটনাস্থলে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল চারটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যেতে শুরু করলে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।

এ সম্পর্কিত আরো খবর...

error: Content is protected !!