শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন
গেমে আসক্তি, গতি হারাচ্ছে শিক্ষা
Tnntv24.শফিকুল আলম ভুইঁয়া নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নিত্য নতুন প্রযুক্তিতে ঝুঁকছে গোটা বিশ্ব। যুগের সাথে তাল মিলাতে থেমে নেই রূপগঞ্জের শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলা ও বইয়ের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে এখন ইন্টারনেট মোবাইল ফোন রয়েছে। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন এখন শুধু শহরেই নয়, মফস্বল শহর রূপগঞ্জের গ্রামের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। একদিকে এটি যেমন যোগাযোগ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রাপ্তির দারুণ একটি সুযোগ ˆতৈরি করেছে, অন্যদিকে কিছু নেতিবাচক দিকও সামনে এনে দিয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক একটি হলো— মোবাইল গেমে শিক্ষার্থীদের আসক্তি, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
আওলাদ হোসেন নামে একজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীরা সারাদিন মোবাইল গেমে আসক্ত থাকে, অনেকে আবার অনলাইন জুয়ায়ও জড়িয়ে পড়েছে তাই লেখাপাড়া এখন হারিয়েই যাচ্ছে৷ ইদানিংকালে প্রকাশিত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সরকারী মুড়াপাড়া স্কুল এবং কলেজের ফল বিপর্যয়ই তার প্রমাণ।
একটা সময় রূপগঞ্জের শিশু-কিশোররা খেলাধুলা, গল্পগুজব, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠত| কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ছোট ছোট শিক্ষার্থীর হাতেও স্মার্টফোন। সকাল-সন্ধ্যা চোখ মোবাইলের পর্দায়—ফ্রি ফায়ার, পাবজি, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানস কিংবা নানা ধরনের হ্যাশ অ্যাডিকটিভ’ গেমে ডুবে থাকে তারা৷। পড়াশোনা, ˆনৈতিকতা, ঘুম, পরিবার, এমনকি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাচ্ছে তারা।
অনেক অভিভাবক এখন অভিযোগ করছেন, সন্তানদের পড়ার টেবিল ফাঁকা থাকে, কিন্তু মোবাইল সারাক্ষণ ব্যস্ত। অনলাইনে ক্লাসের নাম করে গেম খেলে সময় কাটানো, পড়ার সময় মনোযোগ না দেওয়া, পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়া—সবকিছুই এক ভয়াবহ চক্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা যেখানে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে এই আসক্তি ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গেমের মধ্যকার সহিংসতা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, অতিরিক্ত উত্তেজনা শিক্ষার্থীদের আচরণে প্রভাব ফেলছে। তারা ˆধর্য হারাচ্ছে, পরিবার ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমছে, এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
মুড়াপাড়া সরকারী মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তফা মিয়া বলেন, চেতনতা, দিকনির্দেশনা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাদেরকে গেমের আসক্তি থেকে মুক্ত করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে| অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে—শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে ভাবতে হবে এর পরিণতি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নুর আলম বলেন, বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প বিনোদনের সৃষ্টি করে—খেলার মাঠ, পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিলে শিক্ষার্থীরা গেম থেকে দূরে সরে আসবে| সহমর্মিতার সাথে পরামর্শমূলক আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে—মোবাইল গেম জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আব্দুল্লা বিন শফিক বলেন, ১৮ বছরের নীচে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। স্কুলে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। এটা কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।








